গোপালগঞ্জে স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর তিন মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০১৯

আজমানুর রহমান (গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি) গোপালগঞ্জে বিচারিক আদালতের নির্দেশে রহস্যজনক মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পর পুনঃময়না তদন্তের জন্য স্কুলছাত্রী লামিয়া ইসলামের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সকালে আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিলন সাহা’র উপস্থিতিতে সদর উপজেলার ৭নং উরফি ইউনিয়নের ডুমদিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে লামিয়ার লাশ উত্তোলন করা হয়। এসময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি’র পরিদর্শক ফতেহ মোঃ ইফতেখারুল আলম উপস্থিত ছিলেন। নিহত লামিয়া সদর উপজেলার ডুমদিয়া গ্রামের সেনাসদস্য নুর ইসলামের মেয়ে এবং রংপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী ছিলো। চলতি বছরের ঈদুল ফিতরের পরের দিন (৮ জুন) তার নানার বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় লামিয়ার লাশ পাওয়া যায়। এর আগের দিন সে তার মায়ের সাথে গ্রামের বাড়ি ডুমদিয়া থেকে পার্শ্ববর্তী শুকতাইল ইউনিয়নের কেকানিয়া গ্রামে নানা বাড়িতে বেড়াতে যায়। ঐদিন রাতে লামিয়ার স্বজনেরা আত্মহত্যা করেছে মর্মে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

পরে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এ মৃতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে ডুমদিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।নিহত লামিয়ার মা গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ময়না তদন্তের রিপোর্টে লামিয়ার শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন ও তাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমি নিজে আমার মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। আমার মেয়েকে অনেক কষ্ট দিয়ে মারা হয়েছে। আমি দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

উল্লেখ্য, বিচারিক আদালতে লামিয়ার আপন বড় ভাই নাঈম-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে সিআইডি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ফরিদপুর ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে প্রেরণ করেন এবং সেখানে লামিয়ার মৃতদেহের পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে ডুমদিয়া গ্রামের সেই কবরে তার দাফন সম্পন্ন করেন। এদিকে সকাল থেকেই লামিয়া ইসলামের লাশ উত্তোলনকে কেন্দ্র করে তার আত্মীয় স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সহ উৎসুক জনতা কবরস্থানের আশ-পাশে ভিড় করেন। নিহত লামিয়ার স্বজন ও এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনি কে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।