যৌন ব্যবসাকে সামাজিক স্বীকৃতি দিয়েছে মধ্য প্রদেশের বঞ্চরা সম্প্রদায়

প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০১৯

কিছুদিন আগেই আমরা সোশ্যাল মিডিয়া সহ সব জায়গায় ঘটা করে পালন করলাম আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস। দেশের তাবড় তাবড় রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে বলিউড সেলেবরা নারীদের নিরাপত্তা–সুরক্ষা নিয়ে লম্বা–চওড়া ভাষণও দিলেন।

কিন্তু জানা আছে কী এ দেশের মধ্যেই এমনই এক রাজ্য আছে যার একটা সম্প্রদায়ের নারীরা পরিবারের পেট চালানোর জন্য যৌন কর্মী হয়েছেন। রাজ্যটা হল মধ্যপ্রদেশে। যেখানকার বঞ্চরা উপজাতির মহিলাদের প্রধান জীবিকাই হল যৌন ব্যবসা। মধ্যপ্রদেশের নিমুচ–মন্দসৌর হাইওয়ের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় লক্ষ্য করা যায়, খাটিয়াতে রঙীন পোশাক এবং চড়া মেকআপ করে গ্রাহকের অপেক্ষায় বসে রয়েছেন অল্প বয়সী মেয়েরা। কোনও কোনও সময় ট্রাক চালক বা অন্য কোনও গ্রামের পুরুষরাও গ্রাহক হয়ে আসেন এই সব যৌন কর্মীদের কাছে। 
মধ্যপ্রদেশের নিমুচ, রত্লাম এবং মন্দসৌর জেলাতে এই যৌন কর্মীদের সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বঞ্চরা উপজাতির পুরুষ সদস্যরা এই দেহ ব্যবসাকে রীতিমতো পরিচালনা করেন। পরিবারে কোনও মেয়ে সন্তানের জন্ম হলে তা শুভ বলে মানা হয়। কারণ আগামীদিনে এই শিশুই পরিবারকে চালাবে। বাবা এবং দাদা এই পেশায় দালালের ভূমিকায় থাকেন। তাঁরাই সব ধরনের যোগাড় করেন। বাড়ির মধ্যে একটি ঘরকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলে এই যৌন ব্যবসার কাজে লাগানো হয়।  
জানা গিয়েছে, মেয়েদের ১২ থেকে ১৪ বছর বয়স হওয়া মাত্রই পরিবার তাদের যৌনকর্মীতে পরিণত করে দেয়। গ্রামের সব মহিলাদেরই সন্তান রয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই হয়ত অবৈধ।

এই গ্রামের পরিবারের মেয়েদের যৌন ব্যবসায় নামিয়েই টাকা উপার্জন করা হয়। শিশুদের ছোট থেকেই শিক্ষা দেওয়া হয় বড় হয়ে তাদের এই যৌন ব্যবসাতেই নামতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে এই রীতি চলে আসছে এইসব গ্রামগুলিতে। মেয়ে বড় হতে না হতেই তাকে যৌন কর্মীতে পরিণত করে দেওয়া হয়। যৌন ব্যবসা করে যে সম্মান মেয়েরা পায়, তা অন্য কোনও কাজ করলে পায় না বলে জানা গিয়েছে। 
নয়া আভা সামাজিক চেতনা সমিতি নামক এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এক কর্মী আকাশ চৌহান বলেন, ‘‌একদিকে যেখানে এই দেশ পুত্রসন্তান নিয়ে মাতামাতি করে এবং কন্যা সন্তান হওয়া মানে দুর্ভাগ্য। সেখানে রত্লাম, মন্দসৌর এবং নিমুচে কন্যা সন্তান হলে খুশির হাওয়া বয়ে যায় পরিবারের মধ্যে। অথচ সেই শিশু জানে না দুর্ভাগ্য নিয়েই সে জন্মেছে। সবচেয়ে অবাক লাগে এই যৌন ব্যবসাকে কী করে সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে?‌’‌ বঞ্চরা সম্প্রদায়ের ২৩ হাজার সদস্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন তিনটি জেলার ৭৫টি গ্রামে। সেই সম্প্রদায়ের মধ্যে ৬৫ শতাংশই  মহিলা বলে জানা গিয়েছে। পরিবারে মেয়ে জন্মালে তাতে খুশী হয় বঞ্চরা সম্প্রদায় কারণ তাঁরা জানেন মেয়ে মানেই উপার্জনের রাস্তা খুলে যাওয়া। জানা গিয়েছে, এমন অনেক মহিলারাই রয়েছেন যাঁদের জোর করে এই পেশায় নামতে বাধ্য করা হয়েছে।