‘প্রীতিলতা’ চরিত্রে তিশা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ঘোষিত সরকারি অনুদানে নির্মিতব্য ‘ভালোবাসার প্রীতিলতা’ চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ছোট ও বড়পর্দার তারকা অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। তিনি বলেন, ‘সমসাময়িক গল্পকে পর্দায় তুলে ধরা খুব সহজ, কিন্তু পিরিওডিক্যাল গল্পকে ফুটিয়ে তোলা একটু কঠিন। চ্যালেঞ্জের বিষয়। ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’ চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর তাই খুব ভালো লাগছে, এবার কিছুটা ভয়ও লাগছে। কেননা প্রীতিলতা ইতিহাসের চরিত্র।’ তিশা আরও জানান, ঐতিহাসিক সিনেমায় আগেও অভিনয় করেছি, কিন্তু প্রীতিলতা তার থেকে নিশ্চয় আলাদা। একজন দুঃসাহসী নারীর চরিত্র পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করব। গত একমাস ধরে এই চরিত্রটি নিয়েই আছি, নিজেকে প্রস্তুত করছি। পুরো টিম পরিশ্রম করছে ভালো একটি প্রোডাকশন সবাইকে উপহার দেয়ার। এক কথায় বলা যায়, এই চরিত্রটির কারণে খুব বড় একটি দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছি। বাকিটা সময়ই বলে দেবে।

ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ইতিহাস বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। সারা ভারতের স্বাধীনতার স্বপ্নকে আন্দোলিত করেছিল চট্টগ্রামের যুববিদ্রোহ। মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে সাহসিকতাপূর্ণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম চার দিন স্বাধীন ছিল। দুইশ বছরের ব্রিটিশ শাসন-শোষণের ও পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনে, বীর চট্টলার মাটিতে জন্ম নেয় বীর নারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, যিনি ব্রিটিশ প্রমোদ কেন্দ্র ইউরোপিয়ান ক্লাবে সফলভাবে হামলা করেন। প্রীতিলতার আত্মাহুতির বীরোচিত ঐতিহাসিক ঘটনার বিশদ বিবরণ থাকবে এই চলচ্চিত্রে। এমনটাই জানান নির্মাতা প্রদীপ ঘোষ।

শুটিং নিয়ে এই নির্মাতা বলেন, আসছে অক্টোবরের ১ তারিখে আমরা শুটিং শুরু করব। ঢাকা ও চট্টগ্রামে শুটিং শেষ করে কলকাতাতেও আমরা শুটিং করতে চাই। বাকিটা সময় ও অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।

সেলিনা হোসেনের গল্পে রয়েছে প্রীতিলতার কিশোরী জীবনের সহজ সরল ছেলেবেলা। কলকাতায় বেথুন কলেজে অধ্যয়নকালে বীরকন্যা প্রীতিলতার চেতনায় অংকুরিত হয় স্বদেশ মুক্তির ব্রত। চট্টগ্রাম কলেজের মেধাবী ছাত্র রামকৃষ্ণ বিশ্বাস হত্যা মামলার আসামি হয়ে আলিপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন। হাইকোর্টে ফাঁসির রায় ঘোষণার পরে পত্রিকায় তা ছাপা হয়। প্রীতিলতা পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি পড়ে রামকৃষ্ণ বিশ্বাসকে একবার দেখার জন্য উদ্যোগী হন। তার এক আত্মীয়ার মাধ্যমে জেলারের কাছে আবেদন করে রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের বোন পরিচয়ে। অমিতা দাস ছদ্ম নামে প্রীতিলতা চল্লিশবার জেলে রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের কাছে যায় এবং এক সময় তাদের এ পরিচয় প্রণয়ের দিকে এগিয়ে যায়। রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ফাঁসি হবার পরে আহত হূদয় নিয়ে প্রীতিলতা চট্টগ্রাম ফিরে আসেন। মাস্টারদা সূর্য সেনের সাথে সাক্ষাৎ করে সরাসরি সশস্ত্র লড়াইয়ে যোগ দেয়। পলাতক জীবনে মাস্টারদা তাকে ইউরোপিয়ান ক্লাব হামলার দায়িত্ব প্রদান করেন। হামলায় প্রীতিলতা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। গ্রেপ্তার এড়াতে সায়ানাইড গ্রহণ করে জীবন বিসর্জন দেন।

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৮৮তম আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষে চলচ্চিত্রটির শুভ মহরত অনুষ্ঠিত হয়। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ। বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীন আখতার, বিশিষ্ট সংগঠক, আমিন হেলালী।

তথ্যমন্ত্রী বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ভারতের স্বাধীনতার ইাতহাস বাঙ্গালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। সারা ভারতের স্বাধীনতার স্বপ্নকে আন্দোলিত করেছিল চট্টগ্রামের যুববিদ্রোহ। মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে সাহসিকতাপূর্ণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম চার দিন স্বাধীন ছিলো। দুইশত বছরের বৃটিশ শাসন-শোষণের শৃংখল মোচনে, বীর চট্টলার মাটিতে জন্ম নেয় বীর নারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ২০১৯-২০ অর্থবছরের নির্মিতব্য এই চলচ্চিত্রটি নতুন প্রজন্মকে স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর পরিবারের সকল সদস্যই সংস্কৃতি অনুরাগী ছিলেন। চলচ্চিত্র কেবল বিনোদণের মাধ্যম নয় বরং দেশের সংস্কৃতি বিনির্মাণে চলচ্চিত্র একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এই চলচ্চিত্র আগামী প্রজন্মের চেতনা বিকাশে সহায়ক হবে।

বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীন আখতার বলেন, আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ এই কারণে যে, ঔতিহাসিক ঘটনার বিবরণ নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্র বাঙ্গালির সংগ্রামের আত্মপরিচয়কে সমৃদ্ধ করবে। বাংলার মাটিতে যে সকল বিপ্লবীরা জীবন দিয়ে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন তাদের সকলের প্রতি সন্মান জানানো আমাদের দায়িত্ব। চট্টগ্রামের যুববিদ্রোহ বাঙালি জাতির সকল আন্দোলনকে শক্তি জুগিয়েছিল।

ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ নিয়ে নির্মিতব্য এই চলচ্চিত্রের প্রীতিলতা বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ্বাস চরিত্রে থাকছেন মনোজ প্রামানিক। প্রীতিলতার বাবা চরিত্রে খ্যাতিমান নাট্যকার ও অভিনেতা মান্নান হীরা। কিশোরী প্রীতিলতা মৃন্ময়ী রূপকথা। সূর্য সেন চরিত্রে কামরুজ্জামান তাপু, কল্পনা দত্ত চরিত্রে ইন্দ্রানী ঘটক, নির্মল সেন চরিত্রে অমিত রঞ্জন দে, মনোরঞ্জন চরিত্রে সুচয় আমিন, ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট চরিত্রে পাশা মোস্তফা কামাল, ইংরেজ অফিসার চরিত্রে মিজান রহমান, আহমেদ আলী, নাজমুল বাবু, সুধাংশু তালুকদার, বিপ্লবীদের সহায়তাকারী চরিত্রে আরিফুল ইসলাম হাবিব, মনিশ কাকা চরিত্রে পংকজ মজুমদার, পিসি চরিত্রে তামিমা তিথী। রূপসজ্জায় থাকছেন শিল্পী মোহাম্মদ আলী বাবুল। চলচ্চিত্রের পোষাক পরিকল্পনায় রয়েছেন শিল্পী কনক আদিত্য। সংগীত পরিচালনা করছেন খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী বাপ্পা মজুমদার। প্রীতিলতা চলচ্চিত্রে লোগো এঁকেছেন শিল্পী মামুন হোসাইন। শিল্প নির্দেশনায় রয়েছেন শিল্পী জাহিদ মোস্তফা এবং মুজিবুল হক। প্রযোজনা নির্বাহী হিসেবে থাকছেন রিফাত মোস্তফা। মহরত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রের পরিচালক প্রদীপ ঘোষ অভিনয় শিল্পীদের পরিচায় করিয়ে দেন।