যত বেশি প্রাইভেট ব্যাংক দিয়েছি, ব্যাপক হারে কর্মসংস্থান হয়েছে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ব্যাংক যেন ভালোভাবে চলে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিবেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিএবি নেতারা অনুদান দিতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এ অনুদান গ্রহণ করে মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবিলায় সকলেই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। আমি কাউকে বাদ দিতে পারবো না। সে জন্য হয়তো আমরা এটা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। সামনে শীত, আরেকটু হয়তো খারাপের দিকে যেতে পারে। তবুও আমাদের এখন থেকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, বিএবি নেতারা সব সময় এগিয়ে এসেছেন। নিজেরা এগিয়ে এসেছেন তাই আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যত বেশি প্রাইভেট ব্যাংক দিয়েছি, এতে ব্যাপক হারে কর্মসংস্থান হয়েছে। অনেক মানুষের চাকরি হয়েছে। এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা। আর আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যও সম্প্রসারিত হয়েছে। সেখানে ব্যাংকগুলো যাতে ভালোভাবে চলে আমরা সেটাই চাই।

তিনি বলেন, আপনারা যখন যে দাবিটাবি আনেন, যেটা যুক্তিসঙ্গত সেটা আমরা সবসময়ই বিবেচনা করি। আজকেও বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল সাহেব যে কথাগুলো বলেছেন, আমি সেটা দেখবো। যদি সেখানে সমস্যা থাকে তবে যাতে সমস্যা আর না হয় তা আমরা অবশ্যই বিবেচনা করবো। আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে ব্যাংকটা যেন ভালোভাবে চলে সেদিকে আপনারা বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। শেখ হাসিনা বলেন, কিছু কিছু ব্যাংক আছে অতি দুর্বল হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে অনেক সময় মার্জ করাতে হয়। সেটা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে কোনটা ঠিকমতো চলছে। কোনটা ঠিকমতো চালাতে পারছে কিনা? সেগুলো বিবেচনা করেই করা হবে। অবিবেচনা করে কিছুই করা হবে না এইটুকু ভরসা রাখবেন। আপনাদের এ অনুদান সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগেবে। সে জন্য আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে দেখা হচ্ছে না। তবুও বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আপনারা আমার অফিসে কষ্ট করে এসেছেন সেজন্য সবাইকে আন্তরিকে ধন্যবাদ। সবাই সুস্থ থাকবেন এটাই আমরা চাই। দোয়া করেন দেশটা যাতে করোনা মহামারি থেকে মুক্তি পায়। সারাবিশ্ব-ই যাতে মুক্তি পায়। মানুষের সত্যিই খুব কষ্ট হচ্ছে করোনার কারণে। তবুও দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখতে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। তার জন্য যা যা দরকার সেটা দিয়ে যাচ্ছি। জনগণের জন্য কাজ করাটায় আমাদের লক্ষ্য। এ সময় বিএবি ছাড়া আরও সাতটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়। বিএবিতে অন্তর্ভুক্ত ৩৪টি ব্যাংক ১৬৪ কোটি টাকা অনুদান দেয়।

সিটি ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংকের পক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা করে দেয়া হয়। এবি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ব্রাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংকের পক্ষ থেকে পাঁচ কোটি টাকা করে দেয়া হয়। ট্রাস্ট ব্যাংক দুই কোটি, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে ২৫ লাখ টাকা করে দেয়া হয়।

ফরেন অফিসার স্পাউস এসোসিয়েশনের পক্ষ ১০ লাখ, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট পাঁচ লাখ, মিনিস্টার গ্রুপ ২৫ লাখ টাকা এবং এক লাখ সার্জিক্যাল মাস্ক, খাদ্য মন্ত্রণালয় ৬০ লাখ, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ১০ লাখ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ১০ লাখ এবং বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ৪০ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়।