বটিকাণ্ডের মূল হোতা নাজিমকে শোকজ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০

আলোচিত সেই বটি ও ড্রামকাণ্ডের মূল হোতা শেখ মো. নাজিম উদ্দিনকে শোকজ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে’র উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রণয়ন করেন তিনি। নোটিশে আগমী সাত কর্মদিবসের মাধ্যমে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

|আরো খবর
এফএও’র ৩৬তম সম্মেলনের আয়োজক বাংলাদেশ
স্বামীর কৃষি সম্পত্তিতেও ভাগ পাবেন হিন্দু বিধবারা
আঙুল ফুলে কলাগাছ নগরবাড়ী ঘাটের দালালরা!
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে বটি ও ড্রামসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম বাজার দরের তুলনায় অস্বাভাবিক ধরার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এজন্য ডিপিপি প্রণয়নকারী শেখ মো. নাজিম উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। এরপরিপ্রেক্ষিতে নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় মামলা রুজু করা হবে না- তার কৈফিয়ত তলব করে নোটিশ করা হয়েছে।

সচিব মো. নাসিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এই শোকজ নোটিশ গত ১ সেপ্টেম্বর বিকালে পাঠানো হয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং অভিযুক্ত নাজিম উদ্দিনের কাছে। নোটিশে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে অভিযুক্তকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পরে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হবে। এমনকি তাকে সাসপেন্ডও করা হতে পারে বলে মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

তারা বলছেন, এই প্রকল্পে দুর্নীতির ক্ষেত্র তৈরির সঙ্গে নাজিম উদ্দিনের সহযোগী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইংয়ের ডেস্ক অফিসার কৃষি অর্থনীতিবিদ রেহানা সুলতানা এবং ডিপিপি প্রণয়নে সহযোগী সদ্য বিলুপ্ত খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের ডিপিডি শফিকুল ইসলাম শেখকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাদেরকে শোকজ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খামারবাড়ির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত এই প্রকল্পের পিডি ছিলেন শেখ নাজিম উদ্দিন। প্রকল্পে ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তবে বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে তা ধামাচাপা দিয়েছেন। নতুন প্রকল্পেরও পিডি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন নাজিম উদ্দিন।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশিত ৩ হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পটি গত ১৪ জুলাই অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এই প্রকল্পের ডিপিপিতে একটি ২০০ লিটারের পানির প্লাস্টিকের ড্রামের (চাউলসহ) প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। রান্নার জন্য সবজি কাটতে বড় একেকটি বটির দাম ধরা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এক কেজি ধারণক্ষমতার প্রতিটি মসলাপাত্রের দাম দুই হাজার টাকা। একটি অ্যালুমিনিয়ামের চামচের দাম এক হাজার টাকা, একটি প্লেটের দাম ধরা হয়েছে এক হাজার টাকা। দেড় থেকে দুই টন ক্ষমতার ১০টি এসির দাম ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা, ইন্টেল কোর আই-৫ প্রসেসরের ১৪ ইঞ্চি মনিটরের পাঁচটি ল্যাপটপ কিনতে প্রতিটিতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা।

এরকম বিভিন্ন সরঞ্জামের অস্বাভাবিক দাম ধরা হয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এঘটনায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আবদুর রউফেল নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক একেএম মনিরুল আলমের নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি গত ২০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন সচিবের কাছে জমা দেন। ওই তদন্ত কমিটি প্রকল্পে বিভিন্ন সরঞ্জামের অস্বাভাবিক দামের প্রমাণ প্রায়। প্রতিবেদনে শুধু শেখ নাজিম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির সুপারিশ করা হয়। অথচ এর সঙ্গে জড়িত শফিকুল ইসলাম শেখ ও রেহানা সুলতানাসহ অন্যদের দায়ী করা হয়নি।

এদিকে খামারবাড়ির তদন্ত কমিটি কাউকে দায়ী না করে দায়সারা প্রতিবেদন দিয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে