ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে মুক্তি নেই-জাফরুল্লাহ

প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২০

গণস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ভারতের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে বাংলাদেশের মুক্তি নেই। প্রতিদিন ভারত সীমান্তে লোক মারছে। আমাদের আওয়াজ নেই।

গতকাল এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভাসানী অনুসারী পরিষদের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতের নীতি প্রয়োগের প্রতিবাদে এই সমাবেশ হয়।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারে মেরিন ড্রাইভ সড়কের চেকপোষ্টে পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার ঘটনাকে সহজভাবে দেখার সুযোগ নেই। এ হত্যাকান্ড এটা কী ওসি প্রদীপের ঘটনা, না এর সাথে ভারতীয় ‘র’ এবং ইজরাইলের ‘মোসাদ’ যুক্ত আছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, এই তদন্ত করার জন্য আমার মতে এই পুলিশি ইনকোয়ারি দিয়ে হবে না। একটা নিরপেক্ষ কমিশন করে সেটা করতে হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে ১০ শতাংশ পুলিশ অফিসার আছেন তারা প্রদীপের (সদ্য সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত প্রদীপ কুমার দাশ) মতোই। বাকিরা সজ্জ্বন। এই ঘটনার তদন্ত কমিশন না হলে এটা দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক হবে।

ভারতের আগ্রাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করেন ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, প্রতিদিন ভারত সীমান্তে লোক মারছে। আমাদের আওয়াজ নেই। অথচ নেপাল তাদের সংসদে আইন করে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। আমাদের কোনো কোনো মন্ত্রী বলছেন, আমাদের সাথে ভারতের রক্তের সম্পর্ক। এই রক্ত তো দূষিত রক্ত। দূষিত রক্ত দিয়ে কী হবে? পরিচ্ছন্ন রক্ত দরকার। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভারতের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে বাংলাদেশের মুক্তি নেই। এই দূষিত রক্ত থেকে আমাদের মুক্তি দরকার। তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখে আছি। স¤প্রতি ঈদ গেলো। অথচ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে ২৫ কোটি মানুষ তাদের নিজের ধর্মের উৎসব পালন করতে পারেনি। তারা গরুর মাংস খেতে পারল না। অথচ হিন্দুরা চিরকাল নরেন্দ্র মোদির পূর্ব পুরুষরা গরুর মাংস খেতো। চোখ অন্ধ ভারত ২৫ কোটি মুসলমানকে ধর্ম পালন করতে দিচ্ছে না। একটা কাল্পনিক কাহিনীকে ভিত্তি করে তারা রামমন্দির প্রতিষ্ঠা করেছে। মহাভারত, রামায়ন দুটোর মধ্যেই প্ররোচনা ও মিথ্যাচারের গল্প কাহিনী রয়েছে। তাদের গল্প কাহিনীর ওপর ভিত্তি করেই ৫০০ বছরের পুরোনা বাবরি মসজিদ ভেঙে দিয়ে সেখানে আজগবি রামমন্দির নির্মাণ করেছে ভারত। এটা জাতির একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমরা বাংলাদেশ এটার বিরুদ্ধে একটা কথাও বলিনি।

তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায় ছিল মন্দির যেমন হবে তার চেয়েও বড় করে অযোদ্ধা মসজিদ করতে হবে। মন্দির তৈরি হলেও মসজিদ তৈরির কোনো কিছুই নেই, এটাই হচ্ছে ভারত।
ডা. জাফরুল্লাহক বলেন, ১৯৭১ সালে রমনার কালি মন্দির পাকিস্তানিরা ভেঙে দিয়েছিল। শেখ সাহেব (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) এটাকে ঢাকার বাইরে নিয়ে বড় আকারে তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সংখ্যালঘুদের আপত্তিতে তা সরানো হয়নি। এটা ঢাকার নওয়াবদের দান করা জায়গা।

তিনি বলেন, মুসলমানদের এ সহনশীলতা থেকে ভারতে কিছুটা হলেও শিখা উচিত। কিন্তু তারা শিখবে না, তাদের শেখাতে হবে। শেখাতে হলে আজকে আমাদের আওয়াজ তুলতে হবে। আমাদের দুর্ভাগ্য আজকে আমরাদের সব রাজনৈতিক দলরা শুধু সমবেত হওয়ার কথা বলে কিন্তু প্রতিবাদ? আমাদের উচিত ছিল যেদিন রামমন্দির প্রতিষ্ঠা হলো সেদিন ভারতীয় হাইকমিশন ঘোরাও করা। ফেলানি রাস্তা করার কথা ছিল, সেটাও আমরা করিনি। এইসব হচ্ছে আমাদের ব্যর্থতা।

সংগঠনের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতির জুনায়েদ সাকি বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, ভাসানী অনুসারী পরিষদের নঈম জাহাঙ্গীর, রাষ্ট্রচিন্তার হাসনাত কাইয়ুম, গণদলের এটিএম গোলাম মওলা চৌধুরী, ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূর, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের রকিবুল ইসলাম রিপন, মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন ও সাবেক ছাত্র নেতা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।