মেধাবী প্রতিবন্ধীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২০

আব্দুল লতিফ (ঘাটাইল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি )
মানুষ মানুষের জন্য ভুপেন হাজারিকার এই গানের মতোই সত্য হলো টাঙ্গাইলের ঘাটাইল এক বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মেধাবী ছাত্রী জাহানারার জীবনে। ঘাটাইলের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা সুদৃষ্টিতে নতুন জীবনের দ্বার প্রান্তে বাক ও শ্রবণ শারীরিক প্রতিবন্ধী মেধাবী শিক্ষার্থী জাহানারা । তার লেখাপড়ার সকল দায়িত্ব নিলেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল আসনের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা । রোববার বিকেল ৫টায় ঘাটাইল পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পাড়া গ্রামে জাহানার নিজ বাড়ীতে গিয়ে পরিবারের সাথে কথা বলে তার সমস্ত লেখা পড়ার দায়িত্ব নেন সাবেক এমপি রানা । এসময় প্রতিবন্ধী জাহানার হাতে তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানও করেন তিনি । এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কমিশনার মাজহারুল ইসলাম,সিনিয়র সহ সভাপতি ঘাটাইল উপজেলাজেলা ছাত্রলীগের আবু হানিফ, সমাজসেবক গোলাম মোস্তফা,সভাপতি পৌর অপু চন্দ্র ঘোষ,থানা সেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক মিল্টন মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের উপ সম্পাদক আতিকুর রহমান প্রমুখ।
এদিকে জাহানারার মা বিনা বেগম জানান, আমার প্রতিবন্ধী মেয়ের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে চিন্তিায় ছিলাম। আমার মেয়ের উচ্চ শিক্ষার দায়িত্ব নেয়ায় আমাদের এমপি ও সাবেক এমপিকে ধন্যবাদ। আমার মেয়ের লেখা পড়ার জন্য আর কোন চিন্তা নেই। আমি খুব খুশি হয়েছি। আমি তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া কামনা করছি। একই সাথে সাংবাদিকদেরও ধন্যবাদ তারা আমার মেয়ের এসএসসি পাশের খবর মিডিয়াতে তুলে ধরার জন্য ।
এসময় সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা বলেন, বিষয়টি আমি গণমাধ্যমে দেখে তাকে আমার বাবা বর্তমান এমপি আতাউর রহমান খানের পক্ষ থেকে লেখাপড়ার সার্বিক দায়িত্ব নিলাম। প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাড়াতে পেরে আমি নিজেকে গর্ববোধ মনে করছি। বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মেধাবী ছাত্রী জাহানারা ঘাটাইল পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পাড়া গ্রামের বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী জাহাঙ্গীর আলম ও বিনা বেগমের কণ্যা। দুই ভাই বোনের মধ্যে জাহানারা বড়। জাহানারা জন্মলগ্ন থেকেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। উল্লেখ্য যে চলতি বছরে এসএসসি পরীক্ষায় বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী জাহানারা জিপিএ ৫ পায়। তার বাবা ও দুই ভাই বোন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী । প্রতিবন্ধী বাবা দিনমুজুরির কাজ করে খুব কষ্টে লেখার খরচ যোগান দেন। তবে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েও অর্থের অভাবে কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে উবিগ্ন হয়ে পরে মা বিনা বেগম। এ নিয়ে গত ১ই জুন ঘাটাইল টাইমসে “ঘাটাইলে প্রতিবন্ধী বাবার প্রতিবন্ধী মেয়ে জাহানারা পেলেন জিপিএ-৫”- শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।