করোনা সংক্রমণের আশাংকায় দোকান বন্ধ করে দেয়ায় ডিসির বাড়ি ঘেড়াও

প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২০

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মানব দুশমন প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো যখন কাবু, চলছে দীর্ঘদিন ধরে লকডাউন, সেখানে বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলাতেও গত ১০ এপ্রিল লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এভাবে চলতে থাকলে সরকার কিছু শর্ত সাপেক্ষে দোকান মার্কেট খুলে দেয়। কিন্তু মানুষ সচেতন না হয়ে, সরকারি নির্দেশনা না মেনে, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে করোনা আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ানোর সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ফের গাইবান্ধার দোকান- মার্কেটগুলো অনিদিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কমিটি।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘোষণা আসার পরপরই ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসকের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। এসময় জেলা প্রশাসক সরকারি সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে ঘরে থাকতে আহবান জানান। পরে ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এদিকে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্য নানা মুখি পদক্ষপ গ্রহণ করেছে। নিম্ন আয়ের হত দরিদ্র কর্মহীন মানুষের জন্য নগদ সহায়তাসহ বিভিন্নভাবে খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহ সমাজের বিত্তবান মানুষগুলো সামর্থ অনুযায়ী এসব কর্মহীনদের বিভিন্নভাবে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করে চলেছে।

অন্যদিকে, গাইবান্ধার মার্কেটগুলোতে প্রতিদিনই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য বিধির কোন বালাই নাই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মার্কেটগুলোতে দেশি-বিদেশি পোষাকের কমতি নাই। প্রতিবারের মতোই ঈদ উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা মোটা অংকের টাকা আয় করার ভাবনায় সরকারি নিদের্শনাকে অমান্য করে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা করছে। ভুলেই গেছে ক্রেতা- বিক্রেতারা করোনা ভাইসরাসের মতো মরনব্যাধির কথা।

সচেতন মহল বলছে, মার্কেটগুলোতে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মুলতো সরকারি চাকরিজীবী ও ধর্নাঢ্য ব্যক্তিরা। তারা বলেন, এই পরিস্থিতে ঈদ কেনাকাটা না করলেই বুঝি তাদের ঈদ উৎসব ভেস্তে যাবে। এমন ভাবনা মাথায় নিয়েই তারা কেনাকাটায় মেতে উঠেছেন। যা অশুভ লক্ষণ।

জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রমজান ও ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য বাজার যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারি শর্তগুলো পালন করে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন দোকানপাট বিশেষ করে কাপড়ের দোকান, তৈরী পোশাকের দোকান, কসমেটিক্স ও জুতার দোকানসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানে আগত ক্রেতা-বিক্রেতা সরকার প্রদত্ত শর্ত মেনে চলার বিষয়ে সম্পুর্ণ অবহেলা প্রদর্শন করছেন যা করোনাভাইরাস সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বিস্তারের ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে।

জানতে চাইলে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কাপড়ের দোকান, তৈরি পোশাকের দোকান, কসমেটিকস ও জুতার দোকান এবং মার্কেটগুলোয় সামাজিক দূরত্ব না মেনে অনেক ভীড় হওয়ায় সোমবার বিকেল ৪টা থেকে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।