করোনায় সংগীতার সেলিম খানের মানবিক উদ্যোগ

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২০

বাংলাদেশের অডিও ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম প্রাচীন প্রযোজনা সংস্থা সংগীতা। এর কর্ণধার সেলিম খান দেশের সংগীত পিপাসুদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম। এদেশের অনেক সংগীত শিল্পীর ক্যারিয়ার গঠনে তার ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের অনেক গায়ক গায়িকাসহ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অনেক স্বচ্ছল জীবনের নেপথ্যে পরোক্ষভাবে সেলিম খানের অবদান রয়েছে।
যদিও প্রচার বিমুখ সেলিম খান সব সময় খবরের অন্তরালে রয়ে যান। বা তিনি অন্তরালে থেকেই মানুষের উপকার করতে পছন্দ করেন।
করোনা শুরুর পর থেকে দেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সবাই শংকায় রয়েছেন, তাদের জীবিকা নির্বাহ করা বা ভবিষ্যতের চিন্তায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তরফ থেকে দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষের জন্য প্রণোদনা প্রদানের ঘোষণাসহ নানা ধরনের সাহায্যের কথা বলা হয়েছে। শুধু কোনো ঘোষণা আসেনি, এদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির জন্য। অথবা গায়ক, গায়িকা, মিউজিসিয়ানদের জন্য কি করা হতে পারে তা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি।
বাংলাদেশে গীতিকার, সুরকার বা শিল্পীদের শক্ত কোনো সংগঠন পৃথক কিংবা যৌথভাবে না থাকায় মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে একত্রিতভাবে প্রধানমন্ত্রী দফতর বরাবর আবেদন করতেও সমস্যা দেখা দিচ্ছিলো।
এমন পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বৃহত অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সংগীতার মালিক সেলিম খান উদ্যোগ নিলেন। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অনেককে সাথে নিয়ে তিনি গঠন করলেন ‘সেভ দ্য মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি” নামের একটি প্লাটফর্ম। এর পক্ষ থেকে সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটিতে সংবাদ সন্মেলন করা হয়। জানানো হয়, এই প্লাটফর্মের কাজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
এ প্রসংগে সেলিম খান বলেন, আসলে চুপ করে বসে থাকলে তো কিছুই হবে না। আমি একা ভালো থাকতে পারি, এই ভাবনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে সবাইকে। আমি আজীবন বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির বড় তারকা থেকে শুরু করে সাধারণ পর্যায়ের সবাইকে নিয়ে কাজ করেছি। এখনো কাজ করেই যাচ্ছি। বাইরের থেকে অনেক রমরমা মনে হলেও আসলে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা অনেক বছর ধরে ঢিমেতালে চলছে। করোনা আসায় এখন সবার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার পথে। আশা করি, মানবতার মা হিসেবে বিশ্ব স্বীকৃত আমাদের প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই আমাদেরকে সাহায্য করবেন।