ঈদের কেনাকাটায় ব্যাগ ভর্তি করোনা কিনবেন তো!

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২০

অনুরূপ আইচ

এদেশের কিছু কিছু পাবলিক আছে যারা বৃষ্টি বেশি পড়লেও সরকারকে গালি দেয়। আবার দেশে গরম বেশি পড়লেও গালি দেয়। সরকার বলতে এখানে আমি আওয়ামী লীগেকে বুঝাচ্ছি না। এরআগে বিএনপি, জাতীয় পার্টি বা ওয়ান ইলেভেন সরকারকে গালি দিয়ে সেসময় আওয়ামী লীগের পক্ষ নেয়া কিছু পাবলিক আছে, এখন তারা আবার বর্তমান সরকারের বিপক্ষে কথা বলে। এবার বুঝে নিন এরা কি টাইপ মানুষ!
মানসিক রোগী টাইপ এসব এসব লোক নিজেকে ভাবে বুদ্ধিজীবি। অথবা দাবি করে, নিরপেক্ষ সমালোচক। টেলিভিশনের টক শোতেও এমন অনেককেই দেখি আমরা।
এদেরকে একটা কথা বোঝানোই যায় না, সরকার গার্মেন্টস খুলুক আর মার্কেট খুলে দিক না কেন, নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও পাবলিক ঘর থেকে বের হবেইবা কেন! সরকার যদি স্বর্ণের খনি উন্মুক্ত করে দেয় সবাই ফ্রি নেয়ার জন্য, সেখানেও কেন মানুষ ভীড় করবে! গোটা বিশ্বের মানুষ তো এখন জানেই, ঘর থেকে বের হলে করোনা ধরবে। আর করোনা ধরলে আপনি মরবেন।
আজকে গার্মেন্টস খোলার পরে যদি গ্রামের শ্রমিকেরা ঢাকায় না আসতো তাহলে গার্মেন্টস মালিকেরা নড়েচড়ে বসতেন। বিজেএমই থেকেও বলেও দিয়েছে, ঢাকার বাইরের শ্রমিকদের আসার দরকার নেই। তবুও গ্রামে থাকা শ্রমিকরা এসেছে, চাকুরি বাঁচানোর কথা বলে। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও যেসব মানুষ চাকরি করার দোহায় দিয়ে ঢাকা আসে বিজেএমই’র সুনির্দিষ্ট আদেশের পরেও- এসব পাবলিককে খোদ ফেরেশতা এসে যদি বলে, করোনায় চাকরিতে গেলে দোজখ পাবে; তবুও দেখবেন কিছু পাবলিক চাকরির দোহায় দিয়ে টইটই করতে যাবে। এখানে সরকার কি করবে!
মার্কেট খুললেও আপনি কেনাকাটা না করতে গেলেই তো হয়। মানুষ কিছু কিনতে না গেলে মার্কেট কতৃপক্ষ তো এমনিই বন্ধ করে দেবে দোকান। তাই আসুন….. মার্কেট খুলেছে কেন প্রশ্ন না তুলে মানব নামের নিজেদেরকে নিয়ে দোষ প্রশ্ন তুলুন- নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও আমি মার্কেটে যাবো কেন?
অনেকেই আবার বলতে পারেন, সরকার মার্কেট খুলেছে বলে আমাদের বউ বাচ্চারা মার্কেটে যেতে চায়। তাদেরকে সামলাতে পারি না। তাদের উদ্দেশ্যে বলি, আপনার বউ বাচ্চাকে ঈদ শপিং থেকে বিরত রাখতে না পারাটা আপনার ব্যার্থতা। সরকারের নয়। আপনি সামলাতে না পারলে বউ বাচ্চাকে পুলিশে ধরিয়ে দিন, লকডাউন অমান্য করার অভিযোগে। তা তো করবেন না। ভাব দেখাবেন, নিজেদের কোন দোষ নেই। সব দোষ সরকারের।
কাপড়ের মাধ্যমে, হাতে হাত একই স্থানে লাগলে যে করোনা ছড়ায় বেশি- এ কথা তো এখন আন্ধার পুত কানাও জানে। তাহলে আসুন, অন্যকে গালি না দিয়ে নিজেরা মার্কেটে না যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করি আল্লাহর নামে।
আপনি বা আমি শপিং সেন্টারে গিয়ে যে কাপড় ভালো কিনা হাতিয়ে দেখবো, তা তো আরও দশজনের হাত লাগা ড্রেস। আপনার সামনে গোডাউন থেকে প্যাকেট করা ড্রেস বের করে দিলেও তো সেটাতে করোনা ভাইরাস থাকার ঝুঁকি থাকে। কারণ, একটা ড্রেস প্যাকেটজাত হয়ে শোরুমে আসা পর্যন্ত কতজনের হাত বদল হয়, তাতো জানেই সবাই।
এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে, মুখে একটা মাস্ক পড়ে দুই হাতে একটু সাবান ঘষলেই করোনা আপনাকে ধরবে না। করোনাকে এতই মশকরা করার ভাইরাস ভাবেন যদি, তারা দয়া করে সরকারকে গালি দেবেন না প্লিজ। আগে নিজেকে গালি দেন, কেন আপনি এত গাধা হয়ে জন্মেছেন- সেইজন্য।
একটা কথা মনে রাখবেন, কাপড়ের মাধ্যমে করোনা ছড়ায় অনেক। কাজেই ঈদ শপিংয়ের নামে ব্যাগ ভর্তি করোনা কিনে বাসায় ঢুকবেন? আপনার এই ফালতুমির জন্য শুধু আপনি নন, আপনার পরিবার বা প্রতিবেশীরাও মরবে। এখনো কি মানুষ বুঝে উঠছে না, করোনা হলো আল্লাহর দেয়া শক্তিশালী গজব। এই গজবের মধ্যে চাকরি বাঁচানো, ঈদের কেনাকাটা বা সরকার কি ভুল করছে তা নিয়ে লাফানোর চিন্তা পায় কি করে কিছু মানুষ! আল্লাহর গজব দুনিয়ায় পড়েছে- এই ভয়েই তো মানুষের ঘর থেকে বের হওয়া উচিৎ নয়। আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে মাফ চাইতে চাইতেই তো দিনরাত পেরিয়ে যাওয়ার কথা। এই করোনা গজব থেকে বাঁচতে দেশের সরকারকে কেন কঠোর উদ্যোগ নিতে হবে! নাস্তিক কেউও তো বুঝবে, এই গজবের কালে ঘর থেকে বের না হয়ে আল্লাহকে ডাকলে একটু রেহায় পেতে পারি।
কাজেই আসুন প্লিজ করোনার সময় মানুষ যেন শপিংয়ে না যায় তার জন্য স্লোগান হিসেবে প্রত্যেকে পরস্পরের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিন ফেসবুক, টুইটার, ওয়াটসএপ, ভাইবার বা মোবাইলের এসএমএসে- “ঈদের কেনাকাটায় ব্যাগ ভর্তি করোনা কিনবেন তো!”

লেখকঃ সম্পাদক, দ্যা ডেইলি মিরর (বাংলা)