১৮ মাস পর পানিমুক্ত হলো চারটি গ্রাম

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২১

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ২০২১ সালের ২৬ মে ভেঙে গিয়েছিল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বন্যতলা এলাকার খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ। সেই থেকেই পানিবন্দি অবস্থায় আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের মানুষ।

অবশেষে দীর্ঘ ১৮ মাস পর ভেঙে যাওয়া সেই বেড়িবাঁধের স্থানটি মেরামত করা সম্ভব হয়েছে। এতে বন্ধ হলো লোকালয়ে নদীর লবণাক্ত পানি প্রবেশ। শনিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ভেঙে যাওয়া বাঁধের স্থানটি মেরামত করা সম্ভব হয়।

বাঁধটি মেরামত করা গেছে, এই খবরে বন্যতলা এলাকায় ছুটেছে শতাধিক মানুষ। মেরামতে স্বেচ্ছাশ্রমেও সহযোগিতা করছেন অনেকে। আনন্দে আত্মহারা দীর্ঘ ১৮ মাস পানিবন্দি থাকা উপকূলীয় ছয় হাজার বাসিন্দা।

প্রতানগর গ্রামের বাসিন্দা সাঈদুর রহমান জানান, ইয়াসের প্রভাবের জলোচ্ছ্বাসে নদীর বাঁধটি ভেঙে যায়। সেই থেকে দীর্ঘ ১৮ মাস পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছি। মানুষের কত দুঃখ-কষ্ট, সেটি ভাষায় প্রকাশ অসম্ভব। গ্রামের মধ্য দিয়েই নদীর জোয়ারের লবণাক্ত পানি ওঠানামা করেছে। গ্রামের মধ্যে অনেক স্থান নদীর সংযোগ খালে পরিণত হয়েছে। ভেঙে গেছে বহু মানুষের ঘরবাড়ি, ভেসে গেছে মাছের ঘের কৃষিজমি।

তিনি বলেন, অবশেষে বন্যতলা এলাকার সেই বাঁধটি ১৮ মাস পর রক্ষা করা গেছে। আজ থেকে নদীর পানি গ্রামে প্রবেশ বন্ধ হলো। আনন্দে আত্মহারা হয়েছে মানুষ। তবে আবারও দুর্যোগ এলে বাঁধ ভেঙে মানুষ আবারও দুর্ভোগে পড়বে। আমরা টেকসই বাঁধ নির্মাণ চাই, যেন ভবিষ্যতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে মানুষ।

ওই এলাকার মাসুম বিল্লাহ জানান, বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে প্রতানগর ইউনিয়নের প্রতাপনগর, কুড়িকাওনিয়া, মাদারবাড়িয়া ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বন্যতলা, এ চারটি গ্রামের প্রায় ৬০০০ মানুষ পানিবন্দি। অবশেষে আজ থেকে পানিমুক্ত হলো গ্রামগুলো। এখন আর নদীর জোয়ারের পানি গ্রামে ঢুকছে না। ভেঙে যাওয়া বাঁধের স্থানটি জিও ব্যাগ দিয়ে আটকানো হয়েছে।

দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে বন্যতলা এলাকার বাঁধটি সংস্কার কার্যক্রম চলেছে। ফেনী জেলার সালেহ আহম্মেদ নামের এক ঠিকাদার বাঁধ মেরামত কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। প্রকল্পের ব্যয় ৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। তবে এর ব্যয় আরও বাড়বে বলে জানা গেছে।

জাইকার বন্যতলা বেড়িবাঁধ সংস্কার প্রকল্পের কনসালট্যান্ট আন্দুল মালেক জানান, বন্যতলা এলাকায় ৩০০ ফুটের মতো বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। আজ থেকে আর লোকালয়ে পানি প্রবেশ করবে না মূল ভাঙন পয়েন্টটি আটকে দেওয়া হয়েছে। বাঁধ মেরামত কাজটি এখনো শেষ হয়নি, চলমান রয়েছে।