অভাব থেকে মুক্তি পেতে চাই

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২১

নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়াতে ঝিনাইদহে হতদরিদ্র পরিবারদের মাঝে বিনামূল্যে বকনা গরু বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঝিনাইদহের যৌথ অগ্রসরমাণ সৃজক সংস্থা (জাগো)।

এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শাহীন, ভাইস চেয়ারম্যান রাশিদুর রহমান রাসেল, জাগোর সভাপতি নুরুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুল শরীফসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার পাগলা কানাই ইউনিয়নের কোরাপাড়া গ্রামের ছালাম উদ্দীনের স্ত্রী বিউটি খাতুন, সুজ্জাল মন্ডলের স্ত্রী সেলিনা, তালাকপ্রাপ্ত রূপালী, শিল্পি খাতুন, শরিফের স্ত্রী ফাহিয়া খাতুন, ইউনুচের স্ত্রী শাহানাজ বেগম, শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী তহমিনাসহ সাতজন দুস্থ নারীর মাঝে গরুর বকনা (মেয়ে) বাছুর বিতরণ করা হয়। এর আগে গাভি পালনের ওপর নারীদের এক দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

কোরাপাড়া গ্রামের শরিফের স্ত্রী ফাহিয়া খাতুন বলেন, আমার পরিবারে একজন মাত্র উপার্জনকারী। এমন কোনো সঞ্চয় নেই যে তা দিয়ে একটা গরু বা ছাগল কিনব। এই গরু পেয়ে আমি অনেক খুশি। গরু লালনপালন করে ছোট একটি খামার করতে চাই। সেই সঙ্গে অভাব থেকে মুক্তি পেতে চাই।

ইউনুচ আলীর স্ত্রী শাহানাজ জানান, তাকে যে গরুটি দেওয়া হয়েছে। সেটা যদি ভালোভাবে পালন করতে পারেন, তাহলে প্রতিবছর একটি করে নতুন বাছুর গরু জন্ম নেবে। সেগুলো বিক্রি করে তিনি তার সংসারের আসবাবপত্র বানাতে চান। সেই সঙ্গে সন্তাদেরও গরুর দুধ খাওয়াতে পারবে।

গরু লালনপালন করে সে আয় দিয়ে মেয়ে বিয়ে দিতে চান তহমিনা। তিনি বলেন, তাদের একটি কন্যাসন্তান আছে। তারা গরুটি ভালোভাবে পালন করে বিক্রি করে মেয়েকে বিয়ে দিতে চাই। গ্রামের নারীদের সব সময় বাড়িতে সবে থেকেই দিন কাটে। এই গরু পেয়ে তাদের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হয়েছে।

এ বিষয়ে পাগলা কানাই ইউনিয়নের মহিলা সদস্য শেফালী বেগম বলেন, আমার ওয়ার্ডের ৭ জন দুস্থ নারীকে যৌথ অগ্রসরমাণ সৃজক সংস্থা (জাগো) এনজিওর মাধ্যমে একটি করে বাছুর (বাচ্চা) গরু দেওয়া হয়েছে। তারা যদি এই গরুগুলো সঠিকভাবে পালন করতে পারে, তাহলে তাদের সংসারের স্থায়ী সম্পদ বাড়বে। সেই সঙ্গে তাদের পরিবারে দুধের ঘাটতিও পূরণ হবে।

জাগোর নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুল শরীফ বলেন, আমরা সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে থাকি। তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পাগলা কানাই ইউনিয়নের কোরাপাড়া গ্রামের ৭ দুস্থ নারীর মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়েছে। গরু পালনের মাধ্যমে নারীরা যেন কর্মসংস্থান করতে পারেন। তবে গাভি পালনের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।