প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২১

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কচুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে পরাজিত প্রার্থী সেলিনা বেগম সেলির সমর্থনকারী মো. মোশারেফ শেখের (৭১) হাতে চুড়ি পরানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য বালী শোকরানা রব্বানি আজাদের নির্দেশে ইকতিয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেছেন কচুয়া উপজেলার গিমটাকাঠি এলাকার মো. মোশারেফ শেখ। এ সময় পরাজিত প্রার্থী সেলিনা বেগম সেলি ও মো. মোশারেফ হোসেনের ছেলে মো. রেজাউল শেখ উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত ইকতিয়ার হোসেন।

মোশারেফ শেখ বলেন, আমি গত ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কচুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য প্রার্থী সেলিনা বেগম সেলির সমর্থনকারী ছিলাম। নির্বাচনে আমার সমর্থিত প্রার্থী তালগাছ প্রতীকের সেলিনা বেগম সেলি হেরে যান। কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক স্থানীয় ইউপি সদস্য বালী শোকরানা রব্বানি আজাদের সমর্থিত প্রার্থী বই প্রতীকের মোহিনি বেগম জয় লাভ করেন। সেলিনা বেগম সেলির পক্ষে নির্বাচন করার অপরাধে সোমবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে বালী শোকরানা রব্বানি আজাদ, হাজরাখালী গ্রামের হানিফ খানের ছেলে ইকতিয়ার হোসেন, শহিদুল শেখসহ ১৫-২০ জন লোক আমার বাড়িতে আসেন।

আমাকে হুমকি-ধমকি দেন। একপর্যায়ে আমার পুত্রবধূ, স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের সামনে বালী শোকরানা রব্বানি আজাদের নির্দেশে ইকতিয়ার হোসেন তার পকেট থেকে একটি চুড়ি বের করে আমার হাতে পরানোর চেষ্টা করেন। আমার হাতের কবজি মোটা হওয়ার কারণে চুরিটি পুরোপুরি প্রবেশ করাতে পারেননি তিনি। আমাকে বাড়ি থেকে বের না হওয়ার হুমকি দিয়ে তারা চলে যান। এরপর তারা স্থানীয় বিভিন্ন মোড় ও বাজারে গিয়ে বলে মোশারেফ শেখের হাতে চুড়ি পরিয়ে দিয়েছি। এখন আমি এলাকায় মুখ দেখাব কী করে? এই বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই বৃদ্ধ।

পরাজিত প্রার্থী সেলিনা বেগম সেলি বলেন, নির্বাচনের আগে থেকে ১ নম্বর ওয়ার্ডের পুরুষ সদস্য ও সদস্য প্রার্থী বালী শোকরানা রব্বানি আজাদ আমাকে ও আমার সমর্থকদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন। আমার একাধিক সমর্থককে মারধর করেছেন। মঙ্গলবার সকালেও গিমটাকাঠি গ্রামের সাহাপাড়া এলাকার খোকন সাহা, পলাশী রানী সাহা ও সুশান্তকে মারধর করেছেন। নির্বাচনে আমাকে ভোট দেওয়াই কাল হয়েছে এসব মানুষের।

মোশারেফ শেখের ছেলে মো. রেজাউল শেখ বলেন, আমার বৃদ্ধ বাবাকে এভাবে অপমান অপদস্ত করল, এর কি কোনো বিচার নেই। আমার বাবা রাতে কয়েকবার অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার আমরা কঠিন শাস্তি চাই।

কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য বালী শোকরানা রব্বানি আজাদ বলেন, এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা আমার নির্দেশে ঘটেনি। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এই নাটক সাজানো হয়েছে। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই। দোষীদের শাস্তির দাবি জানাই।

প্রসঙ্গত, প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজরা জাহিদুল ইসলাম মন্নুর মৃত্যুজনিত কারণে এই ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। পরবর্তীতে গত ২০ নভেম্বর স্থগিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।