‘মুক্তিপণ’ না পেয়ে অপহৃত এক কৃষককে হত্যা করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের শক্ত বার্তা

প্রকাশিত: মে ২, ২০২০

কক্সবাজারের টেকনাফে অপহরণের পর ‘মুক্তিপণ’ না পেয়ে এক কৃষককে হত্যা করেছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। অপহৃত আরও দুজনের বিষয়ে সন্ত্রাসীরা বার্তা দিয়েছে, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে তাদেরও হত্যা করা হবে।

শুক্রবার (১ মে) ভোররাতে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের রোহিঙ্গা ক্যাম্প (২২ নম্বর) উনছিপ্রাং পুটিবনিয়ার পশ্চিমে ছনখোলা থেকে ওই কৃষকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন।

নিহত আকতারুল্লাহ (২৪) হোয়াইক্যং মিনাবাজার পশ্চিম ঘোনার মৌলভী আবুল কাছিমের ছেলে।  

স্থানীয়রা জানান, গত ২৯ এপ্রিল রাতে মিনাবাজার শামসু হেডম্যানের ঘোনা থেকে ৬ কৃষককে ধানক্ষেতে পাহারারত অবস্থায় অপহরণ করে সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। অপহৃতরা হলেন, কৃষক আবুল হাশেম ও তার দুই ছেলে জামাল এবং রিয়াজুদ্দিন, স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে শাহেদ (২৫), মৌলভী আবুল কাছিমের ছেলে আকতারুল্লাহ (২৪) ও মৃত মোহাম্মদ কাশেমের ছেলে ইদ্রিস। চাল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর বিনিময়ে হাসেমসহ তার দুই ছেলেকে ছেড়ে দিলেও বাকি তিন জনকে ছেড়ে দেয়নি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। অপহৃত শাহেদের মোবাইল থেকে তার পরিবারের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অন্যথায় তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এরমধ্যে মুক্তিপণের টাকা দিতে কোন তৎপরতা না দেখায় নিজেদের শক্তি জানান দেওয়ার জন্য শুক্রবার  ভোর রাতে কৃষক আকতারকে মাথায় গুলি করে হত্যার পর ফেলে রেখে পরিবারকে খবর দেয় রোহিঙ্গা সন্ত্রসীরা। মরদেহের শরীরের পাশে একটি চিরকুট ও ঘটনাস্থল থেকে খালি কার্তূজ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে স্থানীয়রা। বাকি দুই কৃষককে জীবিত পেতে হলে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় ওই চিরকুটে। 

পুলিশের দাবি, কুখ্যাত হাকিম ডাকাত এই কৃষকদের অপহরণ করেছে।

অপহৃত শাহেদের বরাত দিয়ে শামসুদ্দিন হেডম্যান বলেন, শাহেদ ভোররাতে মোবাইলে তার মায়ের কাছে জানান, আক্তারুল্লাহকে মেরে ফেলেছে হাকিম ডাকাত। ২০ লাখ টাকা না দিলে তাদেরও দুইয়েকদিনের মধ্যে মেরে ফেলা হবে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, পুটিবনিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের পশ্চিম পাশে ছনখোলা হতে আক্তারুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করতে স্থানীয় মেম্বার ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এর আগের দিন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা স্থানীয় ছয় ব্যক্তিকে অপহরণ করে। পরে কৌশলে তিনজন ফিরে এলেও বাকিদের মুক্তিপণ ছাড়া ছেড়ে দেয়নি। তাদের মধ্য থেকে ভোরে (১ এপ্রিল) একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনাচার্জ এসআই মশিউর জানিয়েছেন, অপহরণের পর থেকে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। গহীন পাহাড়ে পুলিশের ছয়টি টিম অভিযান পরিচালনা করে তাদের আস্তানা হতে নানা সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছিল। 

এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, অপহৃতদের উদ্ধার ও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযানে পুলিশ ও অন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাহাড়ে রয়েছে। মানবিক আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের একটি অংশ ‘চরম পীড়াদায়ক’ হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

সূত্রঃ দি বিজনেস ষ্টান্ডার্ড