যেভাবে করোনাকে গুডবাই জানালো নিউজিল্যান্ড

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২০

করোনায় কাঁপছে সারা বিশ্ব। বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত। মারা গেছেন দুই লাখেরও বেশি মানুষ। এই মারণ ভাইরাসের ওষুধ বা ভ্যাকসিন এখনো উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়নি। এমন এক পরিস্থিতিতে স্বস্তির খবর শোনাল নিউজিল্যান্ড।

দেশটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কভিড-১৯ রোগের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বন্ধ করতে সমর্থ হয়েছে দেশটি। যে কারণে তারা কার্যকরভাবে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেয়েছে। সেই সঙ্গে করোনার কারণে অধিকাংশ বিধিনিষেধ উঠিয়ে দেওয়া হবে।

গত কয়েকদিন ধরে নতুন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক অঙ্কে নেমে আসে দেশটিতে। আর রবিবার নতুন করে মাত্র একজন আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডান বলেছেন, তার দেশ এখনকার মতো ‘এ যুদ্ধে জিতেছে’।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নিউজিল্যান্ডে সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রে নেয়া কঠোরতম বিধিনিষেধ শিথিল করার কয়েক ঘণ্টা আগে এ খবর পাওয়া গেল।

সংক্রমণ কমে যাওয়ায় আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে লকডাউন উঠিয়ে অত্যাবশ্যক নয়- এমন কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হবে নিউজিল্যান্ডে।

এ ব্যাপারে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডান বলেন, এখনকার মতো তারা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জিতেছেন।

তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও বেশিরভাগ মানুষকে এখনো সারাক্ষণ বাড়িতেই থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন কর্মকর্তারা। সেইসঙ্গে সামাজিক মেলামেশা করতেও নিষেধ করছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে জেসিন্ডা বলেন, আমরা দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করছি। কিন্তু মানুষের সামাজিক জীবন এখনই চালু হবে না।

মরণঘাতী এই ভাইরাসটির কারণে নিউজিল্যান্ডে এক হাজার ৫০০ জন মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের।

নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অ্যাশলি ব্লুমফিল্ড বলেন, ভাইরাস দূর করার জন্য সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে তার অর্জন করতে পেরেছি আমরা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা মিস আর্ডান বলেন, ভাইরাসের সংক্রমণ নির্মূল হয়েছে, তার মানে এই নয় যে পুনরায় কেউ এতে আক্রান্ত হবেন না। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বৈশ্বিক মহামারির মধ্যে নিউজিল্যান্ডের করোনা মুক্তির ঘোষণা যেন এক আশার আলো। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার কারণেই দেশটি ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্তিলাভ করলো দেশটি।

মাত্র ডজনখানেক মানুষ সংক্রমিত হওয়ার পরই সরকার থেকে স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সেইসঙ্গে দেশের সব সীমান্ত বন্ধ ও অন্য দেশ থেকে আসা মানুষদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

এ ছাড়া বড় ভূমিকা পালন করেছে নমুনা পরীক্ষার হার বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়া। এসব পদক্ষেপের কারণেই নিউজিল্যান্ড আজ করোনাভাইরাস মুক্ত।

Source: TBT