প্রথম প্লাজমা থেরাপিতেই দিল্লির কাঙ্ক্ষিত সাফল্য

প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২০

ভারতে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭০০ ছাড়িয়েছে। অনেক রাজ্যেই এখনও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এরই মধ্যে এলো সুখবর। প্লাজমা থেরাপিতে সুস্থ হয়ে উঠলেন এক রোগী। দিল্লিতে ম্যাক্স হাসপাতালের একটি ব্রাঞ্চে এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো হয়েছিল। আর তাতে সাফল্য মিলেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

দেশের মধ্যে এই প্রথম প্লাজমা থেরাপিতে সাফল্যের কথা শোনা গেল। ৪৯ বছরের ওই আক্রান্তকে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট থেকে বের করে আনা হয়েছে। গত সপ্তাহে ওই রোগীর উপর প্লাজমা থেরাপির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়।

গত ৪ এপ্রিল ওই রোগীর শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার হালকা জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ছিল। কয়েকদিন বাদে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ৮ এপ্রিল তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত ১৪ এপ্রিল এক করোনা আক্রান্ত রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের অনুরোধে রোগীর দেহে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করা হয়। প্লাজমা থেরাপির পরেই ওই রোগীর অবস্থার উন্নতি হয় এবং চিকিৎসার চতুর্থ দিন রোগীকে ভেন্টিলেটর থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

খবরে বলা হয়, আপাতত ওই রোগীকে সাপ্লিমেন্টারি অক্সিজেনে রাখা হয়েছে। রোগীকে আইসিইউ থেকে ইতিমধ্যেই অন্য ঘরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। রোববার থেকে তাকে তরল খাবার দেয়া হচ্ছে। রোগীর অবস্থা এখন অনেকটাই ভালো বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছিলেন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ভিত্তিতে করোনা আক্রান্তদের ‘প্লাজমা থেরাপি’ করতে চলেছে দিল্লি। তবে সব আক্রান্তের জন্য নয়। সংকটজনক রোগীরাই আগে এই থেরাপির সুযোগ পাবেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

ম্যাক্স হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর সন্দীপ বুদ্ধি রাজা বলেন, আমরা খুবই খুশি যে এই চিকিৎসা খুব ভালোভাবে কাজে দিয়েছে। করোনা চিকিৎসায় একটা নতুন পথ খুলে দিল এই থেরাপি।

তিনি বলেন, আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে প্লাজমা থেরাপি কোনও জাদু নয়। হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসার সময় অন্য স্ট্যান্ডার্ড চিকিৎসা প্রটোকলও অব্যাহত ছিল। আমরা বলতে পারি যে প্লাজমা চিকিৎসা রোগীকে সুস্থ করতে অত্যন্ত কার্যকরী হয়েছে এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হয়েছে।

তবে রোগীর সুস্থতার কারণ হিসাবে প্লাজমা থেরাপিকে শতভাগ ক্রেডিট দিতে পারছি না আমরা। কারণ অন্যান্য বিষয়ও রোগীর সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

Source:tbt