ক্ষমা চেয়ে ভুল মাস্ক সরবরাহের দায়মুক্তির প্রার্থনা জেএমআই এর

প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২০

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য এন-৯৫ ফেস মাস্ক হিসেবে উল্লেখ করে ‘ভুল’ মাস্ক সরবরাহের কথা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে দায়মুক্তি চেয়েছে জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুটি চালানের মাধ্যমে জেএমআই সিএমএসডিতে ২০ হাজার ৬০০ পিস মাস্ক সরবরাহ করেছিল। চালানে মাস্কগুলোকে এন-৯৫ ফেস মাস্ক (অ্যাডাল্ট) হিসেবে উল্লেখ করা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিদর্শনে উঠে আসে, যে মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে বাস্তবে তা এন-৯৫ মাস্ক নয়।

কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের ভান্ডার ও রক্ষণের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ সম্প্রতি এ নিয়ে জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এন-৯৫ ফেস মাস্ক দাবি করে অন্য মাস্ক সরবরাহ করার অভিযোগের জবাব দেয়ার নির্দেশ দেন।

জবাবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চাহিদা তৈরি হওয়ায় জেএমআই হসপিটাল স্বপ্রণোদিত হয়ে মাস্ক তৈরির চেষ্টা করছে, যা এখনো প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট পর্যায়ে আছে। যে সময় মাস্কগুলো সরবরাহ করা হয়, তখনো দেশে এন-৯৫-এর স্পেসিফিকেশন সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন ছিল না। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে বেশ কিছু পণ্য সরবরাহ করে। সরবরাহকৃত পণ্যের সঙ্গে ভুলক্রমে প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট পর্যায়ে তৈরিকৃত ২০ হাজার ৬০০ পিস এন-৯৫ মাস্ক অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা এন-৯৫-এর স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে ‘কমপ্লাই’ করে না।

চিঠিতে আরও বলা হয়, পণ্য উন্নয়নকালে এসব মাস্কে কোনো প্রস্তুতকারক, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ মুদ্রিত হয়নি। পণ্যটি এখন পর্যন্ত স্থানীয় বাজারেও বিপণন করা হয়নি।

আব্দুর রাজ্জাক চিঠিতে উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও উপরিউক্ত ব্যাখ্যা সদয় বিবেচনাপূর্বক সরবরাহকৃত মাস্ক ফেরত দিয়ে আমাদের অনিচ্ছাকৃত সম্পাদিত ভুলের দায় হতে মুক্তি দানে বাধিত করবেন।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকিসহ দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা শুরু থেকেই পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই সেবা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দেয়ার কারণে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিতের হার বাড়ছে।

বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন (বিডিএফ) নামক ডাক্তারদের একটি সংগঠনের হিসাব বলছে, সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে কমপক্ষে ১৭০ জন চিকিৎসক নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের যোগ করা হলে এ সংখ্যা আরও বেশি হবে। এর মধ্যে সিলেটের একজন চিকিৎসক ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারাও গিয়েছেন।\

SOURCE: TBT