জনদুর্ভোগের আরেক নাম কুমুদিনী হাসপাতাল রোড

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌর এলাকার অধিকাংশ সড়কের বেহাল দশা। একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে উপজেলা সদরের অতি গুরুত্বর্পূণ এবং ব্যস্ততম প্রধান দুই সড়ক কুমুদিনী হাসপাতাল রোড ও বংশাই রোডে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে জনর্দুভোগ চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলতে থাকায় পৌরবাসীসহ পথচারীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মির্জাপুর পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে হাসপাতাল রোডের কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ গেট পর্যন্ত রাস্তায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমসহ বছরের বেশিরভাগ সময়ই সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে যায়। মূলত এই গুরুত্বর্পূণ সড়কটিতে পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এমন নাজেহাল অবস্থা হয়েছে। এতে করে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

জানা যায়, ১ হাজার ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কুমুদিনী হাসপাতালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার সেবা প্রত্যাশী রোগীরা আউটডোরে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। এছাড়াও হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন প্রায় দেড় হাজার রোগী। কুমুদিনী কমপ্লেক্সের ভেতরে গড়ে ওঠা কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ, কুমুদিনী নার্সিং কলেজ ও ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন।

কুমুদিনী হাসপাতালকে কেন্দ্র করে এই রোড ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ক্লিনিক, ফার্মেসি, হোটেল ও দোকানপাট। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাকেন্দ্রের সামনে পানি জমে থাকায় তারাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

দেশ মেডিসিন শপের ওষুধ ব্যবসায়ী দীপংকর বলেন, বহু বছর ধরে এই রোডে পানি জমে থাকে। এতে করে ময়লা পানিতে মশার উৎপত্তি হয়। ক্রেতাদের দোকানে আসতে কাদাপানি মারাতে হয়।

এছাড়াও উপজলোর দক্ষিণের ভাওড়া ইউনিয়নসহ আশপাশের প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি গ্রামের মানুষও লৌহজং নদী পার হয়ে কুমুদিনী হাসপাতাল রোড হয়ে উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন আসা-যাওয়া করে থাকেন। আধা কিলোমিটারের কম দৈর্ঘ্যের সড়কটিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে যায়। সম্প্রতি রোডের বিভিন্ন অংশে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা থেকে খানা-খোন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে রিকশাসহ এ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। অনেক সময় মুমুর্ষূ রোগী হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথেই মৃত্যুবরণ করছেন।

এদিকে, মির্জাপুর পৌরসভার আরেক গুরুত্বর্পূণ সড়ক বংশাই রোডেও একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে। উপজেলার উত্তরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই সড়কটি পাকা করে সংস্কার করা হলেও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে পুকুরে পরিণত হয়। এছাড়াও পৌর এলাকার মেইন রোড, কলেজ রোড, থানা রোড, বাওয়ার কুমারজানী রোডসহ আরও বেশ কয়েকটি স্থানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ভারী বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে করে ড্রেনের দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা পানি রাস্তায় জমে থাকায় পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের বাসিন্দা রিকশাচালক বলেন, হাসপাতাল রোডে একটু বৃষ্টি হলেই জমে থাকা পানিতে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে যেতে কষ্ট হয়। অনেক সময় পানি ঢুকে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য দুই চাকার যানবাহন রাস্তার ভাঙা অংশে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

কুমুদিনী হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. এবিএম আলী হাসান বলেন, কুমুদিনী হাসপাতালে স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এ হাসপাতালে গরিব মানুষরা চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে হাসপাতাল রোডে পানি জমে থাকায় সেবা প্রত্যাশী মানুষজন ও পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করছি। দ্রুত সময়ে মধ্যে সড়কটিতে ড্রেন করার দাবি জানাচ্ছি।

মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র সালমা আক্তার বলেন, হাসপাতাল রোডসহ অন্যান্য সড়কে ড্রেন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তার সংস্কার কাজসহ ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।