লকডাউনে তিতলি’র যত আয়োজন

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২০

কেমন হতো যদি এক সাথে সকল মহিলারা ভেদাভেদ ভুলে সবাই সবার সাহায্যে এগিয়ে আসতো? ঠিক এই কাজটিই করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় গ্রুপ “তিতলি”।

সূচনালগ্ন থেকেই তিতলি তার সহস্রাধিক সদস্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন, দক্ষতা বিকাশ, মানসিক উন্নয়ন এবং বিভিন্নধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়ে কর্মশালা, পূর্ণমিলনি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এর মধ্যেই তিতলি সীমাবদ্ধ নয়, মানসিকভাবে যারা বিভিন্ন সময়ে অন্যদের থেকে উৎপিড়নের শিকার হয়েছে তাদের গল্পগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করে উৎপিড়ন কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। সেই সাথে যারা উৎপিড়নের শিকার হচ্ছে তাদের পাশে দাড়াচ্ছে। এছাড়াও, আগামীতে যারা কর্পোরেট জীবনে যোগ দিবে তাদেরকে কিভাবে নিজেদের প্রস্তুত করা উচিত এই সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দিতে কর্পোরেটে কর্মরত নারীদের সাথে আগামীর কর্ণধারদের মেলবন্ধনের আয়োজন করে থাকে তিতলি। এই উদ্দেশ্যে, তিতলি গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এমনিই একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল; প্রায় ১০০ জনের বেশি তিতলির অংশগ্রহণের মাধ্যমে কিন্তু করনার জন্য অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়। এরপরও তিতলি তার মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে পিছিয়ে নেই। করনার বর্তমান পরিস্থিতির কারনে, তিতলি তার কার্যক্রমগুলো ভিন্ন আঙ্গিকে চালিয়ে যাচ্ছে। এই সম্পর্কে তিতিলির প্রধান সঞ্চালক – নুসরাত জাহান তৃষা বলেছেন – “তিতলি শুধু মাএ একটি ফেইসবুক গ্রুপ নয় এটি একটি কয়েক হাজার সদস্যের পরিবার। এই লকডাউন সময়ে ডিজিটাল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি আমরা। যেহেতু করনায় আতংকিত না হয়ে সচেতনতা বেশী দরকার তাই বিশেষজ্ঞদের দ্বারা মানসিক এবং শারিরীক স্বাস্থ্য ভালো রাখার প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছি তিতলি থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে । এছাড়াও চাকরি এবং ব্যবসাজনিত উদ্বেগ কমাতে আই টি, মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক, বিভিন্ন কোম্পানির পরিচালকদের নিয়ে লাইভ ইন্টারভিউ করছি তিতলিতে।”
এই লকডাউন সময়কে কাজে লাগিয়ে কিভাবে আত্ন-উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায় সে বিষয়গুলো মাথায় রেখে সবাইকে অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে, যাতে এই সময়েও কেউ পিছিয়ে না পরে বরং এক ধাপ হলেও আগিয়ে থাকতে পারে। শুধু মাত্র এটাই নয়, গ্রুপে যারা সাবলম্বী আছে তারা সবাই মিলে চেষ্টা করছেন গ্রুপের পিছিয়ে থাকা মেয়েদের সাহায্য করতে সেটা আর্থিকভাবে হোক কিংবা মানসিভাবে। এই প্রচেষ্টায় যেন বর্তমান সময়ে তারা দুর্বল হয়ে না পরে। আমারই আমাদের জন্য এই স্লোগানকে তারা বরাবরের মতোই দৃঢ়ভাবে বজায় রাখতে পারছে অন্যের প্রয়োজনে একে অপরের পাশে থেকে। তিতলির এখন উদ্দেশ্য এটাই যে, লকডাউন পরবর্তী সময়ে সবাই যেন নতুন উদ্দ্যোমে, নতুন দক্ষতাকে সাথে নিয়ে, আত্মবিশ্বাসের সহিত কর্মজীবনে ফিরে যেতে পারে। এখন পর্যন্ত গ্রুপে এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট, আই.এল.টি.এস, ইংরেজি চর্চা, গ্রাফিক্সের কাজ, উদ্যোক্তা হওয়ার উপায়, মানসিক স্বাস্থ্য, শারীরিক সমস্যা ইত্যাদি নানাবিধ ব্যাপারে বিনামূল্যে একে অপরকে সাহায্য করে যাচ্ছে।