ই-কমার্স প্রতারণার রাশ টানতে আইন হচ্ছে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১

‘এতদ্বারা সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও আলেশা মার্ট তার প্রতিশ্রুতিতে বদ্ধ পরিকর। পূর্বের ঘোষণাকৃত ২০ অক্টোবর ২০২১ থেকে সিডিউল অনুযায়ী বিরতিহীনভাবে বাইক ডেলিভারি কার্যক্রম শুরু হবে। তাই সম্মানিত সকল গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হয়ে সাময়িক ধৈর্য ধারণ করার জন্যে বিনীত অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

এরপর যদি কোনো গ্রাহক তার পেমেন্টকৃত অর্থ রিফান্ড পেতে চান তাহলে এই পোস্টের ক্যাপশনে উল্লেখিত লিংকে ক্লিক করে যথাযথভাবে তথ্য প্রদান করুন। আগে যারা লিংকটিতে আবেদন করেছিলেন তাদের পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন নেই।’

আলেশা মার্ট ডটকম নামের একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পেইজে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে গত ২০ সেপ্টেম্বর। ভুক্তভোগিরা বলেছেন, নিজেদের দায় এড়াতে যত সহজে ঘোষণাটি দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে তাদের দেখা পাওয়া অতটা সহজ নয়। ওটা একটা ঘোষণা মাত্র।

আলেশা মার্টে বাজাজ কোম্পানির ডিসকভার মোটর সাইকেলের জন্য আবেদন করেছিলেন সাইফুদ্দিন আহমেদ (ছদ্মনাম) নামের একজন। তিনি একটি জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টালে কাজ করেন। গত ২১ জুন ৭৭ হাজার টাকা জমা দেন তিনি। তার মোটর সাইকেল ডেলিভারির তারিখ ছিল ২১ সেপ্টেম্বর। নির্দিষ্ট দিনে মোটর সাইকেল ডেলিভারি আনতে গিয়ে তিনি হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। তাকে বলা হয়েছে আগামী ২১ নভেম্বর তার মোটর সাইকেল ডেলিভারি দেওয়া হবে।

সাইফুদ্দিন আহমেদ জানান, মোটর সাইকেল ডেলিভারি আনতে গিয়ে দেখতে পান আলেশা মার্টের অফিসের সামনে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক টাকা ফেরত চেয়ে অপেক্ষা করছেন। অফিসেও যোগাযোগ করা যাচ্ছেনা। তাদের দেওয়া নাম্বারে ফোন করলে বার বার এনগেইজ টোন পাওয়া যায়। ফলে গ্রাহকরা অফিসের সামনে পণ্য অথবা টাকা ফেরতের জন্য ধর্ণা দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমার মত অনেকেই হতাশার মধ্যে পড়ে গেছেন। তাদের সময়ক্ষেপণের বিষয়টাও অনেকে ভাল ভাবে নিতে পারছেন না। সময় নিয়ে কেটে পড়ে কিনা সেটাও অনেকে ভাবছেন।

ই-ভ্যালির জালিয়াতি ধরা পরার পর সংস্থাটির কর্ণধার রাসেল দম্পতি এখন পুলিশের হাতে। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতেও দেখা গেছে ফেসবুকে তাদের পেইজে অনলাইনে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে। এটা একটা নতুন কৌশল বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে ই-কমার্সের নামে প্রতারণার রাশ টানতে ই-কমার্স আইন প্রণয়ন নিয়ে বানিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ১০টি ই-কমার্স সাইটের তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর পর আইনটি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় হওয়ার কথা রয়েছে।

এরই মধ্যে বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর)অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এক সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন,‘ই-কমার্স প্রতারণার দায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিতে হবে। এদিন ‘ডিজিটাল কমার্স ব্যবসায় সাম্প্রতিক সমস্যা’ বিষয়ে পর্যালোচনা সভায় ই-কমার্স বন্ধ না করে শৃঙ্খলায় ফেরানোর তাগিদ দিয়েছেন সরকারের চার মন্ত্রী। তারা হলেন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভোক্তাদের সুরক্ষার জন্য এবং ই-অরেঞ্জ এবং ই-ভ্যালির মতো প্রতারক ই-কমার্স কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে সরকার খুব অল্প সময়ের মধ্যে একটি ই-কমার্স আইন প্রণয়ন করবে। এবিষয়ে ২/১ দিনের মধ্যে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে। কারণ, একটি আইন করতে হলে বহুপক্ষীয় অংশীদারিত্ব থাকতে হবে।

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি বলেন, সম্প্রতি দেশের বেশ কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দ্বারা গ্রাহকরা প্রতারিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আমরা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের জালিয়াতি রোধে একটি ই-কমার্স আইন প্রণয়নের কাজ করছি। যাতে গ্রাহকরা প্রতারিত হওয়ার হাত থেকে মুক্তি পান। একই সঙ্গে তাদের অর্থও ফেরত পেতে পারেন। পাশাপাশি প্রতারক প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। আইনে প্রতারক কোম্পানির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের জন্য সরকারি প্রশাসক নিয়োগের ব্যবস্থা থাকবে। তবে এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগে জনগণকেও সাবধান হতে হবে। এ জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জানা গেছে কোম্পানি আইন অনুযায়ী আদালতের অনুমতি ছাড়া সরকার কোনো কোম্পানিতে প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে না। তবে ই-ভ্যালির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব কিনা তা খতিয়ে দেখছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।