বৈশাখ বরণের শুভ কামনায় নিপাত যাক করোনা

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২০

অনুরূপ আইচ: এবার পহেলা বৈশাখ এসেছে করোনা কবলিত দুনিয়ায়। বাঙ্গালির নববর্ষ বরণ এভাবে হবে তা কখনো কল্পনাও করেনি কেউ। আজ শুধু বাঙ্গালির বিপর্যয় নয়। বিশ্বটাই আজ করোনার গ্রাসে মৃত্যুপুরী হতে চলেছে। এ যেন বিধাতার অভিশাপ!
সম্ভবত এবারই প্রথম বাংলাদেশের মাটিতে পহেলা বৈশাখ প্রবেশ করবে চুপিসারে। রমনার বটমূলে নববর্ষকে বরণ করার কেউ নেই আজ। হবে না মঙ্গল শোভাযাত্রা। পান্তা ইলিশের কথা যেন আজ মনেই নেই কারো! খোলা ময়দানে ঢাকের বাদ্য বাজবে না। কোথাও মানুষ আজ ময়ূর রূপে সাজব না।
করোনায় আক্রান্ত বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জন্য বাঙ্গালিরা আজ প্রার্থনারত। এবারেরে পহেলা বৈশাখ প্রবেশ করেছে মানব অন্তরে ধ্বনিত প্রার্থনার তালে। অবশ্যই ঢাকের তালের চেয়ে হৃদপিণ্ডে প্রার্থনার লয় অনেক শক্তিশালী। এই লয়ে করোনা সহ দুনিয়ার সমস্ত মন্দ জরা উড়ে যাক বৈশাখী প্রলয়ে- এ বাসনা সকলের।
তাই পহেলা বৈশাখের দিনে সবার উচিৎ, যার যার ঘরে থেকে স্রষ্টার আরাধনা করা। একমাত্র একাগ্র ইবাদত ছাড়া যেমন বিধাতার সন্ধান পাওয়া যায় না, তেমনি একমাত্র সর্ব শক্তিমানের করুনা ছাড়া মানবজাতির আজ আর করোনামুক্তির উপায় নেই।
তাই আসুন, আর হেলাফেলা নয়। ইউরোপ আমেরিকার মতো বাংলাদেশ মৃত্যুপুরী হওয়ার আগেই খাস দিলে দিনরাত সেজদারত হই। অতীতের সকল মিথ্যা বলা, চোকলামী করা, অন্যের হক মেরে খাওয়া, গিবত গাওয়া, চুরি করে, অন্যের সুখ দেখে হিংসা করা, ওজনে কম দেয়া, ব্যাবসায় মুনাফার নামে জনগণকে ধোঁকা দেয়া, নিজের টাকা ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে অহংকার করাসহ প্রতিটি ধর্মে যা যা নিষিদ্ধ এমন একটি কাজও যদি কেউ জীবনে একবার করে থাকি, তার জন্য খাস দিলে কান্না করতে করতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। এছাড়া আর বাঁচার উপায় নেই।

লেখক পরিচিতিঃ সম্পাদক, দ্যা ডেইলি মিরর