টেলিকম কোম্পানিগুলো কি প্রধানমন্ত্রীর আদেশ অমান্য করতে উৎসাহ দিচ্ছে গ্রাহকদের!

প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২০

অনুরূপ আইচঃ আজ সকালে আমার ঘুম ভেঙেছে দেরিতে। মোবাইল চালু করেই দেখি, আমার কাছে তিনটি এসএমএস এসেছে বাংলালিংক থেকে। সেখানে ইংরেজিতে লেখা আছে, আপনি অবশ্যই আজকের মধ্যে বিল পরিশোধ করুন।


এইরকম এসএসএস তারা প্রতি মাসেই দেয়। সেটা নিয়ে আমার বলার কিছু থাকে না। কারণ, আমার মোবাইলের বিল দ্রুত পেতেই হয়ত দেয়। স্বাভাবিকভাবে দিতেই পারে। তারা পাওনাদার।
কিন্তু করোনার এই মহাদুর্যেগের সময় কিভাবে এমন এসএমএস গ্রাহকে পাঠান বাংলালিংক! এটা আমার বোধগম্য নয়।
বাংলালিংকের ভিআইপি গ্রাহকদের বলা হয় ‘বাংলালিংক আইকন’। আমি তাদের আইকন গ্রাহক হওয়া সত্বেও তারা এমন কান্ডজ্ঞানহীন বার্তা কিভাবে প্রেরণ করে!
বাংলালিংকের যারা চাকরি করেন তারা কি জানেন না, দেশে ব্যাংক বন্ধ। ফোন রিচার্জ বা বিকাশ করার দোকান সহজে খোলা পাওয়া যায় না এখন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, দোকান যদি খোলাও থাকে তাহলেও কেন আমি ঘর থেকে বের হবো! এটা তো বাংলালিংকের শয়তানি।
যেখানে সরকারর পক্ষ থেকে এতভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, মানুষ যাতে ঘর থেকে বের না হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিদিন বলছেন, মানুষ যেন ঘর থেকে বের না হয়। ঘরে থাকলেই মানুষ বিপদমুক্ত থাকবে। সেখানে বাংলালিংক কিভাবে তার গ্রাহককে এসএমএস দেয় যে, বিল পরিশোধ করতে। এরা তো তাহলে এসএমএস দিয়ে মানুষকে বাধ্য করাতে চাইছে, প্রধানমন্ত্রীর আদেশ অমান্য করতে। ওরা কি তাহলে দেশে করোনা বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে শয়তানি পরিকল্পনায় মেতেছে!
শুধু বাংলালিংক নয় দেশের সব বেসরকারি টেলিকম কোম্পানিগুলো করোনার এই বিপদের সময় গ্রাহকদের সাথে এমন অনৈতিক আচরণ করছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই টেলিকম কোম্পানিগুলো আপনার আদেশ অমান্য করতে তাদের গ্রাহককে বিল পরিশোধ করার জন্য বলে অন্তরালে মানুষকে ঘরের বাইরে যাওয়ার উস্কানি দেয় কোন সাহসে! আপনিই এখন পারেন এই শয়তান টেলিকম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যাবস্থা নিতে। আপনি ছাড়া,এই জঞ্জাল সাফ করা সম্ভব নয়।

লেখক পরিচিতিঃ সম্পাদক, দ্যা ডেইলি মিরর।