ওদেরকে নিয়ে কি আর বলবো- অনুরুপ আইচ

প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২০

নববর্ষ আসি আসি করছে। তার আগেই গোটা দুনিয়া মহামারীতে আক্রান্ত। ইউরোপ, আমেরিকা, চীন, ইরানে মরছে হাজার হাজার মানুষ। তা নিয়ে যেন ভ্রুক্ষেপ নেই বাংলাদেশের অনেকেরই।

অনেকেই দেখি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছে ঘরে তাদের সময় কাটছে না। অনেকেই মেতে আছেন ‘লাল গেন্দা ফুল’ গান নিয়ে। অনেকেই আবার ঘরে বসে বসে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন, কে দান করছেন প্রকাশ্য অথবা কে দান করছেন না- এই নিয়ে এই নিয়ে। অথচ সেই স্ট্যাটাসদাতা নিজে কি করছেন দরিদ্রদের জন্য তার কিন্তু ইয়াত্তা নেই।
আমার তো মনে হয়, শেষ বিচারের দিনেও এসব লোকেরা অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করেই যাবেন।

যাইহোক, এবার সমালোচকদের প্রসঙ্গ বাদ দিন। আমার দেখা মতে করোনার এই মহামারীতে অনেকেই গোপনে দান করে যাচ্ছেন, আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষজনকে। তাদের আমি স্যালুট জানাই। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তারা অন্যের মুখে অন্ন তুলে দেয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখনো এদের মতো মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশের বেশি আছে বলেই হয়তো বাংলাদেশের বেশি আছে বলেই হয়তো দেশটা অনেক ভালো আছে। দেশের বেশিরভাগ মানুষ স্রষ্টার প্রার্থনা স্রষ্টার প্রার্থনা করে বলেই হয়তো এই দেশে করোনা ভাইরাসে মানুষ মরছে কম। তাই বলে আল্লাহর গজব এই কর না নিয়ে উপহাস করার কিছু নেই। যারা আল্লাহর গজব নিয়ে ট্রল করছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি এই কথা।

যারা হাপিত্যেশ করছেন ঘরে সময় কাটছে না বলে তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনাদের ঘরে কি নামাজ-কালামের চর্চা হয় না! আপনাদের বাসায় কি কোরআন শরীফ নেই!

আপনারা তো চাইলে এই সময়টায় কোরআন খতম দিতে পারতেন।
আর অমুসলিমদের উদ্দেশ্যে বলছি আর অমুসলিমদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনাদের ঘরে কি স্রষ্টার প্রার্থনা করার কোনো রেওয়াজ নেই! আপনারা কি নিজে না মরা পর্যন্ত ঈশ্বরের নাম মুখে তুলবেন না! আপনাদের যা ইচ্ছে হয় তা আপনারা করুন আপনাদের ঘরের ভিতরে। কিন্তু দয়া করে সমাজ নষ্ট করবেন না, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উল্টোপাল্টা লেখা লিখে।

লেখক পরিচিতিঃ সম্পাদক, দ্যা ডেইলি মিরর