স্যানিটাইজার উৎপাদনে যেতেই কেরুর এমডিকে বদলি, যার চাকরি আছে মাত্র ২৪ দিন!

প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২০

করোনা প্রকোটে জাতীয় চাহিদার প্রেক্ষিতে ত্বরিৎ সিদ্ধান্তে স্যানিটাইজার উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয়ার পরপরই বদলি করা হয়েছে দেশের একমাত্র সরকারি ডিস্ট্রিলারি প্রতিষ্ঠান ‘কেরু অ্যান্ড কোং (বাংলাদেশ) লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাহিদ আলী আনছারীকে। গত ২৪ মার্চ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চীফ অব পার্সোনাল মো.রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাকে ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা পরিদফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আকস্মিক এই বদলিতে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির নিবেদিত কর্মকর্তারা। তাদের মতে, জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে যখনই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বিপুল চাহিদা-তখনই ত্বরিৎ সিদ্ধান্তে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেন জাহিদ আলী আনছারী। তার এই ত্বরিৎ সিদ্ধান্তের বিষয়টি উর্ধ্বতন কোনো কোনো কর্মকর্তা সহজভাবে নিতে পারেননি।

এ কারণেই অযৌক্তিকভাবে বদলি করা হয় জাহিদ আলী আনছারীকে। তার এই বদলির কারণে সুলভমূল্যে দেশীয় হ্যান্ড স্যানিটাইজার মানুষের হাতে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, করোনার প্রকোটে বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশেও উদ্ভব হয়েছে নজিরবিহীন সঙ্কটময় পরিস্থিতির। সরকারের পক্ষ থেকে করোনা প্রতিরোধে সব ধরণের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হলেও দেশে সঙ্কট তৈরি হয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের। মওকা বুঝে কয়েকটি কোম্পানিও দাম হাঁকিয়ে বসেছে কয়েকগুণ। এই পরিস্থিতিতে ত্বরিৎ সিদ্ধান্তে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন ও বিপণন শুরু করেছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাহিদ আলী আনছারীর তত্ত্বাবধানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটির বাজারজাত শুরু হয়। এ হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৯৯.৯৯ শতাংশ জীবাণু নষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন কেরুর রসায়নবিদরা। কেরুজ হ্যান্ড স্যানিটাইজার’ নামে এ পণ্য বাজারেও সাড়া ফেলেছে।

গত ২৩ মার্চ থেকে কেরুজ স্যানিটাইজারের বিপণন শুরু হয়। প্রথম দিকে ৪০-৫০ কার্টন (প্রতি কার্টনে ১০০ বোতল) উৎপাদন করা হয়েছে। পরদিনই ২৪ মার্চ বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চিফ অব পার্সোনেল মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে অবসর গমনের সুবিধার্থে কেরুর এমডি জাহিদ আলী আনছারীকে সদর দফতরের ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা পরিদফতরে সংযুক্ত করতে বলা হয়।

Source: ইনকিলাব