ভোলায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন ৩ হাজার যাত্রী

প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২১

কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে, তাই বাড়ি থেকে ঢাকা যেতে হবে। সে জন্য লঞ্চঘাটে এসেছেন সবাই সকাল সকাল। কিন্তু বিধি বাম। ঘাটে লঞ্চ নেই। তাই বৃষ্টি আর ভোগান্তি উপেক্ষা করে কেউ বসে আছেন পাড়ে, কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ চা দোকানে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন, কখন আসবে লঞ্চ, তাতে উঠে একটু গা এলিয়ে দিয়ে পাড়ি দেবেন দূরের পথ।

এদিকে রফতানিমুখী শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে রোববার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে লঞ্চ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে সকাল ৮টা থেকে ৯টা ৩০ পর্যন্ত যাত্রীবোঝাই করে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে পাঁচটি লঞ্চ ছেড়ে গেলেও ইলিশা ফেরিঘাটে এখনো প্রায় তিন হাজার যাত্রী অপেক্ষায় আছেন। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন নারী ও শিশুরা।

সরেজমিনে দুপুর ১২টায় ভেলার ইলিশা লঞ্চঘাটে দেখা যায়, ঢাকামুখী প্রায় তিন হাজার হাজার যাত্রী লঞ্চের অপেক্ষায় আছেন। সেখানে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের অধিকাংশই পোশাক কারখানার শ্রমিক। তবে এ সময় বৃষ্টিতে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি পোহাতে দেখা যায়। ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা জটলা বেঁধে আপেক্ষায় আছেন। এতে একদিকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন সবাই।

শুধু ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে নয়, জেলার অন্য লঞ্চঘাটগুলোতে রাজধানী ঢাকা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলামুখী যাত্রীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে।

তবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বিআইডব্লিটিএ, নৌ-পুলিশ, জেলা পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে প্রচারণা চালাতে দেখা গেলেও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই কারোরই।

ভোলার বাংলাবাজার থেকে ঘাটে আসা পোশাকশ্রমিক কহিনুর বেগম জানেন না ঢাকায় যাবেন কীভাবে। তিনি বলেন, অফিস থেকে ফোন ও মেসেজ দিতাছে অফিসে জয়েন করার লইগা। কাইলকা বৃষ্টির কারণে বইরাতে পারি নাই। টিভিতে দেখছি আইজ লঞ্চ ছাড়ব। ঘাডে আইয়া দেহি লঞ্চ নাই। এহন ঢাকা যামু কেমনে?

উত্তর দিঘলদী থেকে এসেছেন মো. বশির উদ্দিন। তিনি বলেন, সকাল ৯টায় ভোলা খেয়াঘাটে গিয়া দেহি লঞ্চ নাই ছাইড়া দিছে। হেনতে ইলিশা ঘাটে আইছি এনেও লঞ্চ নাই। কেউ কয় লঞ্চ আইব, কেউ কয় আইব না। আইজ ঢাকা না যাইতে পারলে চাকরি থাকব না। লঞ্চ না আইলে ফেরিতে কইরা যাইতে হইব।

কহিনুর বেগম ও বশির উদ্দিন নন, ইলিশা লঞ্চঘাটে তাদের মতো রাজধানী ঢাকাগামী প্রায় তিন হাজার যাত্রী লঞ্চের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

এদিকে বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক কামরুজ্জামান জানান, সকাল থেকে ভোলা ও চরফ্যাশন থেকে রাজধানী ঢাকার পথে পাঁচটি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। এ ছাড়া লক্ষীপুরের মজু চৌধুরী ঘাটের উদ্দেশ্য দুটি সি-ট্রাক ও দুটি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। তারপরও ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে প্রায় তিন হাজার যাত্রী অপেক্ষায় আছে। তাদের জন্য আমরা ভোলার লঞ্চ মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা লঞ্চের ব্যবস্থা করছেন বলে জানিয়েছেন।

ভোলা-ঢাকা রুটের কর্ণফুলী-১০ লঞ্চের ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিন বলেন, সরকারের হঠাৎ সিদ্ধান্তে আমরা বিপাকে পড়েছি। একটা লঞ্চ চালাতে প্রায় ১০০ শ্রমিক প্রয়োজন। লকডাউনে সব লঞ্চের শ্রমিকরা ছুটিতে আছেন। তারপরও জেলায় যে স্টাফরা ছিল, তাদের দিয়ে ভোলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে অমাদের দুটি লঞ্চ ছেড়ে গেছে।

এখন যাত্রীদের চাপ দেখে বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা লঞ্চের জন্য বলছেন। ভোলায় আমাদের স্টাফ নেই। তারপরও চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।