আফগানিস্তানে দেড় হাজারেরও বেশি নারী-শিশু নিহত

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২১

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর এ বছরের প্রথম ৬ মাসে আফগানিস্তানে সবচেয়ে বেশি নারী ও শিশু নিহত হয়েছে। এদের সংখ্যা দেড় হাজারেরও বেশি। আর বাস্তুহারা হয়েছেন ৩ লাখের বেশি। সোমবার (২৬ জুলাই) জাতিসংঘ প্রকাশিত এক রিপোর্টে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
২০ বছর ধরে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ বদল হয়েছে বারবার। ২০০১ সালে ক্ষমতা হারানোর পর গত ২ মাসে তালেবানরা আফগানিস্তানের সবচেয়ে বেশি এলাকা দখলে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহারের পর গেল কয়েক সপ্তাহে সরকারি সেনাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়ায় তালেবান। আফগান সেনাদের হটিয়ে সীমান্ত এলাকার ৯০ ভাগ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবিও করেছে তারা। বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির উত্তর ও উত্তর-পূর্বসহ মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ এখন তালেবানের হাতে। এমনকি কুন্দুজ, হেরাত ও কান্দাহারের মত প্রধান কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ারও খুব কাছাকাছি তারা।

অন্যদিকে আফগান সেনাদের দখলে রয়েছে নদীতীরবর্তী সেসব এলাকা যেখানে দেশটির অধিকাংশ মানুষ বসবাস করছেন। সীমান্ত এলাকা এবং প্রধান শহর ও মহাসড়কে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছেন তারা।
জাতিসংঘ জানায়, আফগান সেনা ও তালেবানের মধ্যকার সংঘর্ষের জেরে এ বছরের প্রথম ৬ মাসেই ১ হাজার ৬০০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় ৪৭ শতাংশের বেশি। এ সময়ে বাস্তুহারা হয়েছেন ৩ লাখের বেশি বাসিন্দা। অনেকেই বাধ্য হয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তাজিকিস্তানে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হতাহতের ঘটনার ৬৪ শতাংশই ঘটেছে সরকারবিরোধী কয়েকটি বাহিনীর মাধ্যমে। যার মধ্যে ৩৯ শতাংশ হয়েছে তালিবানের সাথে আফগান সেনাদের সংঘর্ষে। হতাহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো নিজেদের সেনা প্রত্যাহারের পরই বেড়ে যায় সংঘর্ষ ও হতাহতের এসব ঘটনা।
মানবাধিকারকর্মী ফ্রিওনা ফ্রেজার বলেন, ‘২০২১ সালের প্রথম ৬ মাসের সকল হতাহতের ঘটনার অর্ধেকই ঘটেছে নারী ও শিশুদের সাথে। এটা খুব চিন্তার বিষয়। নিজ বাড়িতে থাকা অবস্থায়ই তারা হামলার শিকার হন। মর্টার ও বিমান হামলার ফলেই তারা প্রাণ হারিয়েছেন।’

তবে জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তালেবান দাবি করেছে, তাদের হাতে কোনো বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেনি। আর আফগান সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, তারা যুদ্ধের সব নিয়ম মেনেই চলেছেন এবং দেশটির কোন নাগরিকের প্রাণহানির জন্য তারা দায়ী নয়।