বিমানবন্দরে পাওয়া শিশুটি এখন ঢাকা মেডিকেলে

প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২১

ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলিতে পাওয়া আট মাসের সেই শিশু কন্যার ঠিকানা এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড।

সেখানকার নার্স, আয়া, কর্তব্যরত নারী আনসার, সবাই তার আপনজন। সবার আদর-যত্নে বেড়ে উঠছে শিশুটি। আদর করে সবাই তার নাম রেখেছে ‘আদুরী’।

গত ১ এপ্রিল গভীর রাতে সৌদি আরব থেকে সে দেশের একটি উড়োজাহাজে আট মাসের শিশুকে নিয়ে তার মা হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আসেন। সারা রাত শিশুটির মা বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল বেল্টের পাশে শিশুটিকে নিয়ে বসে ছিলেন।

পরদিন সকালে শিশুটিকে একটি ট্রলিতে রেখে মা উধাও হয়ে যান। পরে বিমানবন্দরে কর্মরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) শিশুটিকে উদ্ধার করে। তাকে বিমানবন্দর থানায় দেওয়া হয়। ওই দিনই বিমানবন্দর থানার পুলিশ চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় শিশু বিভাগের ২০৮ নম্বর ওয়ার্ডের চিকিৎসক ইফফাত আরার অধীনে ভর্তি করে। আদুরীর বয়স এখন ১১ মাস পেরিয়ে গেছে। প্রতিদিন পুলিশের দুজন করে নারী সদস্য তার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছে।

ঢাকা মেডিকেলে আদুরী।
ঢাকা মেডিকেলে আদুরী। ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসক ইফফাত আরা গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, সর্দি নিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এখন তার অবস্থা ভালো।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় যেদিন নিতে চাইবে, সেদিন তাদের কাছে তুলে দেওয়া হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, আদুরী শিশু ওয়ার্ডের মেঝেতে বসে খেলছে। পাশের বিছানার শিশুদের স্বজনদের কিনে দেওয়া খেলনা দিয়ে খেলছে সে। ওয়ার্ডের নার্স ও কর্মচারীরা তাকে পোশাক কিনে দিয়েছে। ওয়ার্ডের নিরাপত্তার দায়িত্বে নারী আনসার, হাসপাতালের আয়ারা তাকে খাওয়াচ্ছে ও পরিচর্যা করছে। আদুরীও তাদের আপন করে নিয়েছে।

আনসার সদস্য বন্ধনা কর প্রথম আলোকে বলেন, আদুরী হাসি দিয়ে কোলে ওঠার জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়। তখন তাকে কোলে না নিয়ে পারা যায় না। অপরিচিত মানুষের কোলেও সে যেতে চায় না। আদুরীকে সন্তান হিসেবে নিতে অনেকেই হাসপাতালে আসছেন।

১ এপ্রিল গভীর রাতে শিশুটিকে নিয়ে দেশে ফিরে তার মা বিমানবন্দরে আরেক যাত্রীর সঙ্গে কাঁদছিলেন এবং বলছিলেন, সৌদিতে এক ব্যক্তি তাঁকে বিয়ে করেছিলেন। এখন তিনি বিয়ের কথা অস্বীকার করছেন।

এপিবিএনের তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন তখন প্রথম আলোকে বলেছিলেন, হয়তো লোকলজ্জার ভয়ে সকালে শিশুটিকে রেখে তার মা কোথাও চলে গেছেন। এখন তারা ভিডিও ফুটেজ দেখে শিশুটির মাকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। মাকে খুঁজে বের করে বুঝিয়ে সন্তানকে তাঁর কাছে দেওয়া হবে।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটির মাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে শিশুটিকে সন্তান হিসেবে নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিঃসন্তান এক চিকিৎসক দম্পতিসহ অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিষয়টি তাঁরা আদালতকে জানিয়েছেন। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে যে কেউই শিশুটিকে পালন করতে পারবেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সোনামণি নিবাসে পাঠানো হবে। সেখান থেকে তাঁরা চাইলে আদালতের মাধ্যমে আগ্রহী ব্যক্তিকে পালন করতে দিতে পারবেন।