আড়তদারের কথায় চামড়া কিনে কাঁদছেন তিনি

প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২১

প্রতিবছর ঈদুল আজহায় শখের বশেই চামড়া কিনে বিক্রি করেন মুন্সিগঞ্জের শেখ আরমান আলী। আড়তদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবারও চামড়া কিনেছেন তিনি। কিন্তু প্রতিবারের তুলনায় আড়তদারের কথা মত প্রায় ৬ গুণ বেশি চামড়া কিনেছেন। তবে কথা রাখেননি আড়তদার আমানউল্লাহ। তিনি টালবাহানা করে সময় ক্ষেপণ করায় পথে বসেছেন শেখ আরমান আলী। প্রায় ১৮ লাখ টাকা লোকসানে পড়ে এখন কাঁদছেন তিনি।

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী শেখ আরমান আলী বলেন, আড়তদার আমাকে শেষ করে দিল। আমার দুই ছেলের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে ফেললাম। অনেক মাদরাসা থেকে বাকিতে চামড়া কিনেছি, তাদের টাকা আমি মারতে পারব না। আমি এখন কী করব? সিন্ডিকেটের পাল্লায় পড়ে আজ আসি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।

তিনি আরও বলেন, আমি গতকাল সকাল থেকেই ১০টা মাদরাসার চামড়া সংগ্রহ করেছি। আড়াই হাজার চামড়া ৭৫০, ৭০০ ও ৬৫০ টাকা দরে কিনেছিলাম। এর আগে পোস্তার আড়তদার আমানউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। প্রতিবারই কম বেশি চামড়া আনতাম আমি। সেই সূত্র ধরে তার সঙ্গে পরিচয়। আমানউল্লাহর আমাকে বলেছিলেন চামড়া যা পাবেন সব আনবেন। তিনি চামড়ার দামও নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। তার কথা মতই চামড়াগুলো কিনেছিলাম।

শেখ আরমান আলী বলেন, ৯টি ট্রাকে করে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থেকে গতকাল রাত ৮টার দিকে চামড়া নিয়ে সাভারের ট্যানারিতে আসি। এরপর থেকেই আমানউল্লাহ টালবাহানা করতে থাকেন। ট্রাক থেকে নামিয়েই চামড়ায় লবণ দিতে হবে। কিন্তু পর্যাপ্ত লবণ নেই। ক্রেতা নেই। এভাবে নানা কথা বলে সময় ক্ষেপণ করেন। এতে রাতেও গাড়িতেই চামড়া থেকে যায়। বাধ্য হয়ে আজ নিজেই ট্যানারিতে চামড়া নিয়ে যাই। ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও লবণ না দেওয়াও চামড়ার মান অনেক খারাপ গেছে। তাই ২৫০ টাকা দরে ১ হাজার ৮০০ চামড়া বিক্রি করেছি। এছাড়া ৭০০ চামড়া একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। বিক্রির অযোগ্য হওয়ায় সেসব চামড়া থেকে দাম পাইনি।

২৫০ টাকা দরে চামড়া ক্রয় করা জহির ট্যানারির ম্যানেজার আলমগীর বলেন, চামড়া সংগ্রহের ৬ ঘণ্টার মধ্যেই লবণের প্রক্রিয়া সেরে ফেলতে হয়। কিন্তু আরমান আলীর চামড়া প্রায় ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও ট্রাক থেকেই নামানো হয়নি। ফলে চামড়ার অনেকাংশ নষ্ট হয়েছে। তারা বেশি দামের আশায় সময় নষ্ট করেছেন। এখন এই চামড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকার ওপরে কেউ কিনবে না। আমরা তার একেবারে নষ্ট ৭০০ চামড়া বাদে সব চামড়া কিনেছি। আর কিছু সময় অতিবাহিত হলে এই চামড়া কোনোভাবেই বিক্রি করা সম্ভব হতো না।

এ ব্যাপারে পোস্তা এলাকায় গিয়ে আড়তদার আমানউল্লাহর খোঁজ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখওয়াত উল্লাহ জানান, গতকাল সন্ধ্যা থেকেই ট্যানারিগুলোতে কাঁচা চামড়া আসা শুরু হয়েছে। গেল বছরের ন্যায় এবারও ৮০ লাখ গবাদি পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামেই মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করেছেন ট্যানারি শিল্পের মালিকরা।

এ ব্যাপারে শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমরা ট্যানারি পরিদর্শন করেছি, সরকার নির্ধারিত মূল্যেই চামড়া কিনছেন ট্যানারি মালিকরা। এছাড়া পরিবেশও বর্তমানে ঠিক রয়েছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লবণ না দিয়ে বেশি দামের আশায় চামড়া নষ্ট করেছেন। তারা সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেছেন।