পড়ে আছে তিনটি হাসপাতাল

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২১

বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত রোগীর তুলনায় সরকারি দুই হাসপাতালে শয্যাসংকট। অনেক রোগী যখন করোনা ওয়ার্ডের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তখন জেলার বিশেষায়িত তিনটি হাসপাতাল খালি পড়ে আছে। এর মধ্যে দুটি হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হলেও ১৫ বছরেও মেলেনি জনবল ও চিকিৎসাসামগ্রী। আরেকটি হাসপাতালের অবকাঠামোর কাজ ২০ বছর আগে শুরু হলেও দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর গত বছর শেষ হয়েছে। তবে কার্যক্রম চালু হয়নি।

২০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত তিনটি হাসপাতাল শিবগঞ্জের আলিয়ার হাট, নন্দীগ্রাম সদর ও আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে অবস্থিত। এসব হাসপাতাল যখন পড়ে আছে, তখন জেলার প্রধান দুই সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে সংগ্রাম করতে হচ্ছে করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীদের। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) একটি সাধারণ শয্যাও খালি নেই। ২৫০ শয্যার দুই হাসপাতালে এর বেশি সংখ্যক রোগী ভর্তি আছেন।

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনটি বিশেষায়িত হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সান্তাহারের হাসপাতালেই অর্থ বরাদ্দ হয়েছে দুই দফায়। ঠিকাদারের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগও ওঠে নির্মাণকাজ বন্ধের পর।

২০২০ সালের শেষ দিকে সান্তাহারের হাসপাতালটির অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রায় তিন কোটি টাকার চুক্তিমূল্যে নির্মাণকাজ শুরু হয়। নন্দীগ্রামের হাসপাতালটিতে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে একজন চিকিৎসা কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগ দিয়ে বহির্বিভাগের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু আছে। গত সোমবার সকালে হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, ঝকঝকে ভবন, নেই শুধু চিকিৎসাসেবা। বহির্বিভাগ চালু থাকলেও নিয়মিত চিকিৎসক বসেন না বলে অভিযোগ সেবাপ্রত্যাশীদের।

জানতে চাইলে বগুড়ার সিভিল সার্জন গওসুল আজিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রামের হাসপাতালের নির্মাণ শেষ হয়েছে ২০০৫ সালে। প্রতিটি হাসপাতালে ৬ জন চিকিৎসক এবং ১৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও কর্মচারীর পদ রয়েছে। কিন্তু এখনো জনবল নিয়োগ ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের অনুমোদন মেলেনি।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১-০২ অর্থবছরে নন্দীগ্রাম সদরে, শিবগঞ্জের আলিয়ার হাটে এবং আদমদীঘির সান্তাহারে ২০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে তিন হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ১১ কোটি টাকা। এর মধ্যে নন্দীগ্রামে ৩ কোটি ৫৪ লাখ, শিবগঞ্জে ৪ কোটি এবং সান্তাহারে ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০০৫ সালে অন্য দুই হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শেষ হলেও সান্তাহার হাসপাতালের কাজ মাঝপথে আটকে যায়।

সান্তাহারের হাসপাতালটি পৌরসভার রথবাড়ি এলাকায়। সিভিল সার্জন জানান, ২০০৭ সালে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই সময় হাসপাতালের নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রেখেই চিকিৎসকসহ লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রায় দুই কোটি টাকার বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়। পরে নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকসহ অন্যান্য দপ্তরের কর্মচারীদের অন্যত্র নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে সান্তাহার হাসপাতালের জন্য পাঠানো চিকিৎসা সরঞ্জাম আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের (সুপ্র) বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে জী এম ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, চিকিৎসাসেবা পাওয়া জনগণের মৌলিক অধিকার। দ্রুত জনবল নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ বরাদ্দ দিয়ে এই তিন হাসপাতাল চালু করা দরকার।