‘করোনা কেড়ে নিয়েছে আমাদের রুটি-রুজি’

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২১

‘করোনায় সব শেষ হয়ে গেছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছরের করোনার ছোবলে আমাদের পৈত্রিক ব্যবসা প্রায় বন্ধের উপক্রম। এখন আর আগের মতো ব্যবসায় কোনো প্রাণচাঞ্চলতা নেই। এমনকি গত দেড় বছরে এই পৈত্রিক ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে কেহ কেহ।’

খুব আক্ষেপ করে কথাগুলো বললেন চাঁদপুর শহরের আব্দুল করিম পাটোয়ারী সড়কের উত্তম স্টোরের মালিক কামারশিল্পী উত্তম চন্দ্র কর্মকার।

তিনি আরও বলেন, ‘আবার অনেকে ব্যবসার পরিধিও ছোট করে ফেলেছে। মূল কথা এই মহামারি করোনা কেড়ে নিয়েছে আমাদের রুটি-রুজি। অথচ কেহই আমাদের কোনো খবর রাখে না। অনেকে সরকারি সহযোগিতা পেলেও আমরা বঞ্চিত।’

তিনি বলেন, ‘আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামারশিল্পের দুর্দিন চললেও প্রতিবছরই কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠতো এ শিল্প। তাই আমরা প্রতিবছরই কোরবানির এই সময়টার অপেক্ষায় থাকি। কারণ এই সময়ে সারা বছরের ধার-দেনার পরিশোধের সুযোগ থাকে। কিন্তু গত বছরের ন্যায় এবারও করোনায় সব আশা শেষ হয়ে গেছে।’

যদিও একসময় সারা বছরের ন্যায় কোরবানির ঈদে টুং-টাং শব্দে মুখর থাকত চাঁদপুরের কামারপাড়াগুলো। অন্য বছরের এই সময়ে দম ফেলারও সময় ছিল না তাদের। দিন-রাত দা, ছুড়ি, বটি, চাপাতিসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি বানাতে নির্ঘুম ব্যস্ততায় সময় কেটেছে।

চাহিদামতো নির্দিষ্ট সময়ে সরঞ্জামাদি ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে ঘুমানোরও সময় পায়নি তারা। কিন্তু করোনায় থমকে গেছে জনজীবন। তাইতো ঈদুল আজহা আগমনের শেষ মুহূর্তেও চাঁদপুরের কামারপাড়ায় নেই কোনো ব্যস্ততা। এই করোনায় ফুরিয়ে গেছে তাদের মুখের হাসিও।

চাঁদপুর শহরের তালতলা, বিষ্ণুদী, কুমিল্লা রোড, করিম পাটোয়ারী সড়ক, উকিলপাড়া, বকুলতলা রোড ও পুরানবাজারের কামারপাড়াগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে রাত-দিন টুং-টাং শব্দ আর নেই। কামারশিল্পীদের দা, ছুড়ি, বটি, চাপাতিসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি বানানোর কাজে কোনো ব্যস্ততাও নেই।

ফলে দোকানের মালিক থেকে শুরু করে কর্মচারীরাও কাজ না থাকায় অলস সময় পার করছেন। আবার অনেকে বেতন দিতে না পারায় কর্মচারীকে ছুটিও দিয়ে রেখেছেন। এদের মতো মতলব উত্তরের চেঙ্গাচর বাজার, লুতুরদি, কালিপুর, কালিপুরবাজার, সুজাতপুর, আনন্দবাজার এলাকাও একই চিত্র দেখা গেছে।

চাঁদপুর শহরের তালতলার শংকর স্টোরের মালিক শংকর কর্মকার জানায়, কোরবানির ঈদের এক থেকে দেড় মাস আগ থেকেই শুরু হতো আমাদের ব্যস্ততা। বাধ্য হয়ে এই সময়ে কর্মচারীও বাড়াতে হতো। কিন্তু এ বছর করোনায় কর্মচারী বাড়ানোর পরিবর্তে কমাতে হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শহরের চেয়ারম্যান ঘাট এলাকার চাঁদপুর কর্মকার স্টোরের মালিক রবি কর্মকার জানায়, বংশ পরম্পরায় আমরা কামারের কাজ করে আসছি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে এ পেশা বন্ধ হওয়ার উপক্রম।