টিকা নিতে এসেও ভঙ্গ হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২১

করোনার টিকা নিতে আসা মানুষের ভিড়ে ভঙ্গ হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। জেলায় দিন দিন করোনার টিকা নিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

রোববার (১১ জুলাই) হাসপাতালের করোনা টিকাদান বুথের সামনে দেখা যায় বিশাল লাইন। সেখানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছেন। চাপ সামলাতে টিকাদান কেন্দ্রটি পার্শ্ববর্তী কলকাকলী স্কুলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের তুলনায় টিকা নিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। মানুষকে টিকা নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সকালে টিকা কার্যক্রম শুরু করার আগেই জড়ো হতে থাকেন হাজারো মানুষ। সকাল ৯টায় টিকা দেওয়া শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গেই ধারণ ক্ষমতার অধিক মানুষ হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়। শেষে টিকা কেন্দ্র পরিবর্তন করে পাশের কলকাকলী স্কুলে নেওয়া হয়।

এদিকে মানুষের চাপ বাড়ায় টিকা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। মানা সম্ভব হয়ে উঠছে না সামাজিক দূরত্ব। সচেতন মহল করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন।

অন্যদিকে টিকা নিতে আসা অনেকেই সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকা না পাওয়ার এবং ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। টিকা দেওয়ায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগও করেছেন তারা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মানুষের উপস্থিতির কারণে কিছুটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে টিকাদান কেন্দ্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

টিকা নিতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, ধারণক্ষমতার বেশি মানুষ টিকা নিতে এসেছে। কর্তৃপক্ষের নানা অব্যবস্থাপনা দেখা যাচ্ছে। জায়গা, বুথ ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব রয়েছে। যেকোনো সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মচারী বলেন, এখানে টিকা নিতে এসেছি নাকি করোনা ভাইরাস সঙ্গে নিয়ে বাসায় যাচ্ছি বলতে পারছি না। হাসপাতালে সকাল থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এখন এক কেন্দ্র থেকে আরেক কেন্দ্রে এসেছি। এখনো টিকা পাইনি। হাজারো মানুষ, অথচ কোন প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউ। অনেকের মুখে মাস্ক পর্যন্ত নেই। একজনের গা ঘেঁষে আরেকজন দাঁড়িয়ে আছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, চার-পাঁচ হাজার মানুষের ভিড়। করোনার টিকা নিতে আসা লোকজনের মধ্যেকে করোনাভাইরাস বহন করছেন তা বলা মুশকিল। সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আগের তুলনায় টিকা গ্রহণে আগ্রহীর সংখ্যা বাড়ছে। মানুষের মনে যে শঙ্কা ছিল তা দুর হয়ে গেছে। তাছাড়া নতুন করে টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম শুরুর আগে নিবন্ধনের বয়সসীমা ৪০ বছর ছিল। এখন সেটা কমিয়ে ৩৫ বছর করা হয়েছে। এজন্য মানুষের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে।