বাংলাদেশের ইসলাম ও আমাদের করনীয়- ড. ফয়জুল হক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

প্রবাস ডেস্কঃ বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে নিম্নোক্ত সকল হক্কানী আলেম ওলামাদের রয়েছে অনেক অবদান।মতাদর্শগত ভিন্নতা থাকলেও নিরলসভাবে ইসলাম প্রচারে কাজ করে যাচ্ছেন ভিন্ন ভিন্ন প্লাটফর্মের মাধ্যমে।ইসলামের প্রতি তাদের অবদানকে ছোট করে দেখার কোন সূযোগ নাই। বর্তমানে আমরা কারো ভক্ত হয়ে গেলেই যেমনি পুর্বের আলেম ওলামাদের অবদান ভূলে যাই, তেমনি বর্তমান সময়ের অনেক বড় পর্যায়ের আলেম-ওলামাগনও বয়সে ছোট আলেমদেরকে ইসলামের খেদমতে উৎসাহ দিতে ভূলে যান;এ সুযোগে ইসলাম বিদ্বেষিরা ইসলামের সুমহান আদর্শকে কলুষিত করতে উঠেপরে লেগেছে, এবং তারা তাদের অপপ্রচারে সফলও হচ্ছে।
এদেশ হক্কানী পীর আওলিয়ার বাংলাদেশ, এই দেশেই ছারছীনার মরহুম পীরে কামেল শাহ নেছারুদ্দীন রহ. এর নামে রয়েছে প্রায় চার হাজার মাদ্রাসা, তেমনি চরমোনাইর মরহুম পীরে কামেল সৈয়দ এছহাক রহ. এর নামেও রয়েছে শতশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।আবার হাটহাজারীর কওমী মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে সারা বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার কওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।অন্যদিকে মরহুম হাফেজ্জী হুজুর রহ., আল্লামা আজিজুল হক রহ.,ফুলতলীর মরহুম হযরত পীর ছাহেব কেবলা রহ.,মুফতি আমিনী রহ. ও খতীব ওবায়দুল হক রহ. দেরও রয়েছে লক্ষ লক্ষ ভক্ত অনুরক্ত। এদেশে ইসলাম ও মুসলমানের দুর্দিনে ঐক্য আন্দোলনের জন্য কাজ করেছিলেন শতাব্দীর অন্যতম অলীয়ে কামেল হযরত কায়েদ সাহেব হুজুর রহ. ও ফুরফুরা শরীফের মরহুম আল্লামা আব্দুল কাহহার সিদ্দীকী হুজুর দ্বয়।
বাংলাদেশ নামক জায়গায় শত শত ইসলামিক মুফাসসির গড়ে উঠেছে এ শতাব্দীর অন্যতম মুফাসসির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর হাত ধরেই।।এদেশে ইসলামী শাসন ব্যাবস্থা,রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা, সুদমুক্ত ইসলামী জীবন ব্যাবস্থার জন্য ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় অকাতরে জীবন দিয়েছেন এমনকি কেহ কেহ বাতিলের ফাঁসির দড়িতে ঝুলেছেন যথাক্রমে:- মরহুম মাওলানা আব্দুর রহিম রহ., অধ্যাপক গোলাম আজম রহ. মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী রহ.,মাওলানা আব্দুস ছোবহান রহ. মীর কাশেম আলী, কাদের মোল্লা, কামরুজ্জামান,আলী আহসান মোহাম্মদ মোজাহিদ সহ আরো হাজারো শহীদ।
মাঠ পর্যায়ে ইসলামের বানীকে পৌঁছাতে জান ও মাল দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তাবলীগের লক্ষ লক্ষ ভায়েরা। বিশ্ব ইজতেমার কারনে আজ বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি সকলের কাছে সমাদ্রিত।আবার বাংলাদেশে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য মাইল ফলক হিসেবে থাকবেন মাওলানা শামসুদ্দীন রহ., মাওলানা শামসুল ইসলাম, মাওলানা আবুরেজা নদভী এমপি ও মাওলানা কামাল উদ্দীন জাফরী সহ নামনাজানা অনেক ইসলামিক স্কলার্স।মদ্রাসাগুলোকে সরকারের পৃষ্টপোষকতায় এনে দিতে অবদান রয়েছে মাওলানা এম এ মান্নান রহ.সাহেবের।
এ দেশে ইসলাম একদিনে এবং কোন একজন ব্যাক্তি বিশেষের মাধ্যমে আসেনি। ইসলাম এসেছে যুগযুগ ধরে এদেশের ইসলামপ্রিয় আলেম ওলামা,হক্কানী পীর মাশায়েখ, তাবলীগ, কওমী, আলীয়া,মসজিদ, খানকাহ ও ইসলামী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে।সে কারনেই ইসলাম বিদ্বেষীদের মাথা নস্ট হয়ে গেছে, উঠেপরে লেগেছে অনৈক্য তৈরিতে। কারন তারা জানে উপরোক্ত ব্যাক্তি বা সংগঠনগুলো যতোদিন থাকবে, ততোদিন বাংলাদেশে ওদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হবে না।আর তাদের পাতানো ফাঁদেই আমরা ঘুরেফিরে প্রবেশ করছি, কেহ বুঝে,আবার কেহ না বুঝে।বস্তুত ইসলামের ব্যাপকতারই ক্ষতি হচ্ছে আমাদের দূরদর্শিতার অভাবের কারনে।আমাদের অনৈক্য দেখে ইসলাম বিদ্বেষীরা খ্যালখ্যালিয়ে হাসছে।
এই অবস্থায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমাদের উচিত হবে,সকল আলেম ওলামা,পীর মাশায়েখ ও ইসলামপন্থী মানুষদেরকে যার যার ব্যাক্তিগত পর্যায় থেকে সম্মান করা, পরস্পর সম্পর্ক বৃদ্ধি করা, মতের ভিন্নতা থাকলেও একজন অন্যজনকে শ্রদ্ধা করা, পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলোতে আমন্ত্রণ জানানো, একজন অন্যজনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভিজিট করা, সেচ্ছায় দাওয়াত খাওয়া ও অন্য ভাইকে দাওয়াত দেয়া।অন্যদিকে ইসলামের কাজে নিয়োজিত সকল হকপন্থীদের মধ্য থেকে মুরব্বীদেরকে নিয়ে একটি সর্বদলীয় ইসলামিক কাউন্সিল গঠন করা ও তার মাধ্যমে আমাদের নিয়মিত দোষ-ত্রুটি ইহতেছাবের নিয়তে সংশোধন করা। আর তাতেই আমরা পাবো সফলতা, ইসলামের সুমহান বাতাস পাবে হাজারকুটি সাধারন জনতা। অন্যদিকে বাতিলের পরিকল্পনায় আসবে কুঠার আঘাত। সর্বাপরি আমরা পারবো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে। আসুন সবাই একত্রে বলি “আর নয় হিংসা,ঐক্য আনবে সফলতা”।আমিন।

লেখক: ডক্টর মাওলানা ফয়জুল হক ( মালয়শিয়া থেকে)

লেখকঃ ডক্টর মাওলানা ফয়জুল হক ( মালয়শিয়া থেকে)