ডিএসসিসির ৮ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায়

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২১

এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। আটটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২২ মামলায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

শনিবার (১০ জুলাই) করপোরেশন এলাকার ধানমন্ডি, জিগাতলা, হাজারীবাগ, শাজাহানপুর, কদমতলা, কে এম দাস লেন, অভয় দাস লেন, মাতুয়াইল ও শ্যামপুর এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এডিস মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ছয় জন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতগুলো পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২১৬টি ভবন ও নির্মাণাধীন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং ২০টি ভবন ও নির্মাণাধীন স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় এবং অননুমোদিতভাবে দোকান খোলা রাখা ও যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করায় মোট ২২ মামলায় ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন।

অঞ্চল-১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মেরীনা নাজনীন ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে তিনি ১৫টি স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এ সময় গণপূর্ত অধিদফতরের একটি ও বাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সুবাস্তু’র একটি নির্মাণাধীন ভবনসহ মোট চারটি ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন।

অঞ্চল-২ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সুয়ে মেন জো’র তত্ত্বাবধানে করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা ও ইরফান উদ্দিন আহমেদ অঞ্চল-২ এ অভিযান পরিচালনা করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা ১১ নং ওয়ার্ডের উত্তর শাহজাহানপুরের আমতলা এলাকায় ৫০টি ভবন পরিদর্শন করেন। এ সময় ছয়টি ভবনে মশার লার্ভা পাওয়ায় ছয়টি মামলা ও ১ লাখ ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ কদমতলার ওয়াসা রোড, মদিনাবাগ, উত্তর মুগদা এলাকায় ২৮টি বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং দুটি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় দুই মামলায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ সময় বিধিনিষেধের মধ্যে একটি জুতার দোকান খোলা রাখায় সেখানেও অভিযান চালিয়ে একটি মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া অভিযানে ছয়টি বাড়ির মেঝেতে (আন্ডারগ্রাউন্ডে) পানি জমা থাকায় সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে বালু ভরাট করার লিখিত মুচলেকার মাধ্যমে সতর্ক করা হয়।

অঞ্চল-৩ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বাবর আলী মীর হাজারীবাগ ও জিগাতলায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে তিনি ১০টি স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং হাজারীবাগ ও জিগাতলা এলাকায় দুটি নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

অঞ্চল ৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকার ৩৯নং ওয়ার্ডের অভয় দাস লেন ও কে এম দাস লেন এলাকায় ৩০টি বাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করেন। এ সময় দুটি ভবন ও দুটি দোকানে লার্ভা পাওয়ায় মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

অঞ্চল-৯ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল হাসান মাতুয়াইল এলাকায় ৩০টি নির্মাণাধীন ভবন ও কারখানা পরিদর্শন করেন। এ সময় একটি বাড়ির সামনে রাস্তায় বর্জ্য ফেলে যান চলাচল ও লোকজনের চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করায় তিন হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া পাঁচটি নির্মাণাধীন ভবনে মশার প্রজননস্থল দেখতে পাওয়ায় আদালত সেসব বাড়ির মালিককে একদিনের সময় বেঁধে দেন। আগামীকালের (রোববার) মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তাদের বাড়িগুলো সিলগালা করা হবে মর্মে আনিক-৯ বাড়ির মালিকদের জানিয়ে দেন।

অঞ্চল-১০ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন মিয়া শ্যামপুরের লাল মসজিদ রোড, বালুর মাঠ ও বড়ইতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে আদালত ৫৩টি স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং লাল মসজিদ রোডের দুটি নির্মাণাধীন ভবনে মশার লার্ভা পাওয়ায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।