‘অন্তত হাড়ের টুকরোগুলো পেলে কবর তো দিতে পারবো’

প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২১

একই ফ্লোরে একসাথে ১৮ জন কাজ করতাম। ৬ জন বেঁচে আছি। ১২ জনকে খুঁজে পাচ্ছি না। এখন অপেক্ষায় আছি তাদের লাশের। লাশ না পেলে হাড়ের টুকরোগুলো যেন পাই। সেগুলো তো নিয়ে যেতে পারবো। কবর তো দিতে পারবো।

শুক্রবার (৯ জুলাই) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে একথা বলছিলেন সহকর্মী মো.মোতালেব।

তিনি বলেন,‘চারতলায় কাজ করি। রোজার ঈদের পর সবাই যোগদান করি। ৫টার কিছু আগে আসরের নামাজ পড়তে নিছে নামি। কিছুক্ষণ পর দেখি নীচ তলায় আগুন। আস্তে আস্তে আগুন উপরে উঠতে থাকে। সবাইকে উপরে উঠতে বলি। যারা উপরে উঠেছে তারা বেঁচে আছে। আর যারা নীচে নামতে গেলে আগুনের ধোঁয়ায় অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছে। উপরে যারা উঠেছিল তারা ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় রশি দিয়ে নীচে নেমে জীবন রক্ষা পাই।’

মোতালেব বলেন,‘১২ জনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের লাশটা যেন পাই। লাশ না পেলে শরীরের হাড়গুলো পেলে সেগুলো নিয়ে গিয়ে কবর তো দিতে পারবো।’

আগুন কিভাবে লাগতে জানতে চাইলে মোতালেব বলেন, তা বলতে পারবো না। কিছুদিন আগেও চানাচুরের চুলা থেকে চার তলায় আগুন লাগে। তখন অবশ্য এমনিতেই আগুন নিভে যায়। ফ্যাক্টরীতে ভিতরে দুটি সিঁড়ি থাকলেও বাইরে কোনো সিঁড়ি ছিল না বলে জানান মোতালেব।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকায় হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৫২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।