খামারে কোটি টাকার গরু, বিক্রি কম, দুশ্চিন্তায় খামারি

প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২১

কোরবানি ঈদের মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। করোনাসৃষ্ট উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে জেলার গরুর খামারিদের। কর্তৃপক্ষ অনলাইনে গবাদিপশু বেচাকেনায় উদ্বুদ্ধ করলেও অধিকাংশ খামারি এই পক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত নন। যে কারণে ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। বলছেন, পশুর হাট না বসলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা প্রায় অসম্ভব।

কুমিল্লার ১৭টি উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার খামারি রয়েছেন। তারা কোরবানি ঈদ সামনে রেখে প্রতি বারের মতো এবারও গরু, ছাগল লালন-পালন করেছেন। কিন্তু গবাদিপশু শেষ পর্যন্ত হাটে ওঠানো এবং বিক্রি করা যাকে কিনা, এ নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। যদিও কিছু খামারি অনলাইনে ঝুঁকেছেন। অনেকে ক্রেতা এরই মধ্যে অনলাইনে কোরবানির পশু কিনতে শুরু করেছেন বা অর্ডার দিয়ে রাখছেন। তবে জেলার বেশিরভাগ খামারি এখনো অনলাইনে গবাদিপশু বিক্রিতে অভ্যস্ত নন। যে কারণে তাদের উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে।

নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের দিশাবন্দ এলাকার রামিশা ক্যাটল ফার্মে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদে বিক্রির জন্য খামারি ৩০টি গরু মোটাতাজা করেছেন। গরুগুলোর ওজন ১২ থেকে ২০ মণ। মূল্য আড়াই থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত। তবে এখনও কোনো গরু বিক্রি হয়নি। প্রতিষ্ঠানের কর্তা সবুর আহমেদ অপেক্ষায় আছেন হাট বসলে হাটে নিয়ে গরুগুলো বিক্রি করবেন।

খামারের পরিচর্যাকারী কবির হোসেন বলেন, দিনরাত পরিশ্রমের ফলে গরুগুলো ভালোই মোটাতাজা হয়েছে। এ জন্য আমরা কোনো রকম মেডিসিন ব্যবহার করিনি। এখন বিক্রির অপেক্ষা। কিন্তু হাট না বসলে আমাদের সমস্যায় পড়তে হবে।

সবুর আহমেদের কণ্ঠেও একই উদ্বেগ। ‘খামারে এক কোটি টাকার বেশি মূল্যের গরু আছে। লালন-পালনে বাড়তি খরচ তো আছেই। হাট না বসলে আমরা সঠিক দাম পাবো না। সব মিলিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।’ বলেন তিনি।

দিশাবন্দ দক্ষিণ পাড়া এলাকার ফজর এগ্রোমেট্রিক্স ফার্মে গিয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানের ৩৯টি গরুর মধ্যে একটিও বিক্রি হয়নি। ফার্মের পরিচালক একেএম সাইফুর রহমান বলেন, করোনা পরিস্থিতি আমাদের দুশ্চিন্তার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কঠোর লকডাউন চলায় গরুগুলো হাটে নিতে পারবো কিনা তাও জানি না।’

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার কোরবানির ঈদে জেলার প্রায় ৩০ হাজার খামারে গবাদিপশু লালন-পালন করা হয়েছে। জেলায় ২ লাখ ৩৭ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। তার বিপরীতে মজুদ রয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩৪৫টি পশু।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, অনলাইনে গবাদিপশু বেচাকেনার সুযোগ রয়েছে। করোনার সংক্রমণ এড়াতে আমরা সবাইকে অনলাইনে গবাদিপশু বেচাকেনা করতে উদ্বুদ্ধ করছি। এরপরও বুধবার (৭ জুলাই) পর্যন্ত জেলার ৩৯১টি পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসন থেকে। ১৪ জুলাইয়ের পর লকডাউন যদি শিথিল হয়, তখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব হাট বসবে।