মাছ কেটে সংসার চলে তাদের

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২১

বেঁচে থাকার তাগিদে কতো রকমের কাজই না করে মানুষ। প্রতিটি মাছ বাজারে গেলে এখন চোখে পড়ে কিছু মানুষ মাছ কেটে দিচ্ছেন। বিনিময়ে কিছু টাকা পাচ্ছেন তারা। তাই দিয়েই এই পেশার সঙ্গে যুক্তদের সংসার চলে যাচ্ছে। দিন দিন মাছ কেটে নেওয়ার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের আয়ও বাড়ছে। গাজীপুরের বিভিন্ন বাজারে অর্ধশতাধিক লোক মাছ কাটার পেশায় জড়িত। সেই পেশার আয় থেকেই সংসার চলে তাদের।

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, গাজীপুর শহরের জয়দেবপুর মাছ বাজার, কোনাবাড়ি মাছের বাজার, ভোগড়া, গাছা ও টঙ্গীসহ প্রায় সব এলাকার মাছের বাজার থেকে মাছ কেনার পর অনেকেই ডাকাডাকি করতে থাকেন। মাছ কেটে নিয়ে যান। অল্প টাকায় তারা মাছ কেটে ধুয়ে দিচ্ছেন। বাড়িতে ঝামেলা এরিয়ে চলার জন্য প্রায় সবাই বাজার থেকে মাছ কেটে ধুয়ে নিয়ে যান। এজন্য মাছের সাইজ অনুযায়ী টাকা নিয়ে থাকেন। সাইজ বড় হলে বেশি আর ছোট হলে কম।

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত কোনাবাড়ি মাছের বাজারের পাশে সারি ধরে বসে আছেন সাগর হোসেন, অমল চন্দ্র বর্মণ, সুম্বু হাওলাদার, বিজয় দাস, ওমনচাদ বর্মণ, কমন চন্দ্র, শান্তি পাল, মিন্টু, পন্ডুচন্দ্রসহ বেশ কয়েকজন। সবাই মাছের ক্রেতাদের অপেক্ষায় আছেন। কেউ মাছ কিনলেই তাকে মাছ কেটে নেওয়ার জন্য ডাকাডাকি করছেন।

কোনাবাড়ি বাজারের মাছ ব্যবসায়ী গোপাল বর্মন বলেন, আগে মানুষ বড় মাছ কিনে ঝুঁলিয়ে নিয়ে বাড়ি যেতে পছন্দ করতেন। আর এখন বাড়িতে ঝাঁমেলা এড়িয়ে যেতে প্রায় সবাই বাজার থেকে মাছ কেটে নিয়ে যান। শুরুতে তারাই মাছ কেটে দিতেন। এখন চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই বাজারে বটি নিয়ে অপেক্ষা করেন মাছ কেটে দেওয়ার জন্য।

গাজীপুর শহরের ছায়াবিথি এলাকার বাসিন্দা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, কর্মব্যস্ত জীবনে শহরের একক পরিবারগুলোতে দৈনন্দিন কেনাকাটা বা রান্নাবান্নার মতো জরুরি কাজও রয়েছে। সময় বাঁচাতে প্রতিনিয়ত করা যেখানে সম্ভবপর হয় না, সেখানে মাছ কিনে বাড়িতে নিয়ে কাটা গৃহকর্তীর জন্য কখনো কখনো বাড়তি ঝাঁমেলার মনে হয়। তাই সবাই চেষ্টা করেন মাছ কেটে নিতে।

মাছ কাটা পেশায় জড়িত সুম্বু হাওলাদার বলেন, গত ৭ বছর ধরে মাছ কাটছি এখানে, বড় মাছ ১০ টাকা কেজি, ছোট মাছ ৩০ টাকা কেজি হিসাবে কেটে দিচ্ছি। তবে কখনো কখনো কমবেশি হয়। কেউ কেউ খুশি হয়ে বেশি টাকা দেয়, কেউবা আবার কম দিয়ে যান। খরচ বাদে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মতো থাকে, এতেই কোনো রকমে সংসার চলে যাচ্ছে। সাগর হোসেন ওই বাজারে মাছ কাটে ৩ বছর হয়েছে।

ওমনচাদ বর্মণ বলেন, সকাল ৭টায় শুরু করি রাত ১০ টায় বাসায় যাই। তবে লকডাউনের কারণে এখন বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে কাটাকাটি। তাদের একজন করে সহযোগী রাখা আছে, ওরা কাস্টমার ডেকে আনে, মাছের আঁশ ছাড়ায়,পলিথিনে ভরে দেয় আর আমরা কাটাকাটি করি।

গাজীপুরের আমবাগ এলাকার বাসিন্দা টিপু চৌধুরী বলেন, বড় মাছ বাসায় নিয়ে কাটাকাটি কষ্টকর। ওদের কাছে দিলে বিভিন্ন সাইজে সুন্দর করে মাছ কেটে দেয়। ওদের কাটতে সময়ও কম লাগে কাজটাও বেশ পরিপাটি।