খুলনার বাজার থেকে নাপা উধাও

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২১

খুলনা অঞ্চলে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে খুলনায় বেড়েছে জ্বর, সর্দি, কাশির রোগী। ফলে চাহিদা বেড়েছে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের। আর এই সময়ে হঠাৎ বাজার থেকে উধাও হয়েছে নাপা গ্রুপের ওষুধ।

নগরীর ফার্মেসিগুলোতে মিলছে না নাপা, নাপা অ্যাক্সট্রা, নাপা অ্যাক্সট্রেন্ড ও সিরাপ জাতীয় ওষুধ। দু-একটি ফার্মেসিতে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ মিললেও তা ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে চড়া দামে।

ক্রেতারা বলছেন, কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করছেন। আর ওষুধ ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানি থেকেই নাপার সাপ্লাই নেই।

নগরীর হেরাজ মার্কেট, খুলনা মেডিক্যাল কলেজের সামনের ওষুধের মার্কেট ও খালিশপুসহ বেশকিছু এলাকার ফার্মেসি ঘুরে এমন চিত্রের দেখা মিলেছে।

ফার্মেসির মালিকরা জানান, প্যারাসিটামলের মধ্যে নাপা, এইচ প্লাস, অ্যাক্সট্রা, অ্যাক্সট্রেন্ড, ফাস্ট, টামেন, রেনোভা নামের বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ রয়েছে। অথচ মানুষ নাপার প্রতি ঝুঁকছেন বেশি। তারা নাপা ছাড়া অন্য ওষুধ নিতে চাচ্ছেন না।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে আসা শরিফুল ইসলাম বলেন, ওষুধের কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে দাম বাড়ানোর একটি ফন্দি এটা। ওষুধের চাহিদা বেড়েছে দেখে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওষুধের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করেছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

মেসার্স বাঁধন ফার্মেসির স্বত্ত্বাধিকারী মোবাশ্বির হোসেন বলেন, নাপার সঙ্কট রয়েছে। কোম্পানি থেকেই নাপা, নাপা অ্যাক্সট্রা, নাপা অ্যাক্সট্রেন্ড ও সিরাপ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে কী কারণে তারা ওষুধ দিচ্ছে না, জানা নেই তার।

হেরাজ মার্কেটের শুকতারা ফার্মেসির সাইফুল ইসলাম লালন বলেন, মার্কেটে প্যারাসিটামলের ব্যাপক চাহিদা। কোম্পানি ওষুধ দিতে পারছে না। মানুষের মধ্যে এক ধরনের রোগ হয়েছে, নাপা লাগবে তাদের। মানুষ বোঝে না অন্যগুলোও একই কাজ করে। কিন্তু মানুষ নাপা ছাড়া বুঝতে চাচ্ছে না।

জয়া মেডিক্যাল হলের গিয়াস উদ্দিন আহমেদ সাদী বলেন, প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের চাহিদা বেড়েছে। নাপা ওষুধ সরবরাহ নেই। নরমাল দিনে ২/৩ ফাইল সিরাপের চাহিদা ছিল। এখন সেই চাহিদা বেড়ে ৫০ ফাইলও বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি খুলনা শাখার সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, অনেক মানুষের এখনই প্রয়োজন নেই, কিন্তু পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ কিনে রাখছেন। মানুষের নাপার প্রতি ঝোঁকটা বেশি। এ কারণে চাহিদা বেড়ে সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, মানুষের মধ্যে একটি ভ্রান্ত ধারণা- জ্বর হলে শুধু নাপাই খেতে হবে। কিন্তু অন্য কোম্পানিগুলোরও যে বিভিন্ন নামে প্যারাসিটামল ওষুধ আছে, সে সম্পর্কে তাদের ধারণা কম। জ্বর হলে চিকিৎসকরা প্যারাসিটামল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে তার মানে শুধু নাপা খেতে হবে- তা নয়, ভালো মানের অন্য কোম্পানির প্যারাসিটামল খেলেই হবে। এ বিষয়ে সকলকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান তিনি।