করোনার চতুর্থ ঢেউয়ের শঙ্কায় উদ্বিগ্ন ফ্রান্স

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২১

ফ্রান্সে বর্তমানে করোনা সংক্রমণের যে পরিস্থিতি, তাতে জুলাইয়ের শেষ দিকে দেশটিতে করোনার চতুর্থ ঢেউ দেখা দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটির সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ। সম্ভাব্য এই দুর্যোগ থেকে বাঁচতে জনগণকে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে ফ্রান্সের সরকারের পক্ষ থেকে।

সোমবার ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ইন্টার রেডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সরকারের মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল অ্যাটাল বলেন, ‘সম্প্রতি যারা করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন, নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে তাদের অধিকাংশই করোনার সবচেয়ে সংক্রামক ধরন ডেল্টায় আক্রান্ত। গত সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন ফ্রান্সে দৈনিক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী এই ধারা অব্যাহত থাকলে জুলাইয়ের শেষেই করোনার চতুর্থ ঢেউ দেখা দেবে।’

‘এই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে দেশের জনগণকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’

সম্প্রতি ব্রিটেন-রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাড়ছে করোনায় দৈনিক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, করোনার পরিবর্তিত ধরন ডেল্টার প্রভাবেই বাড়ছে নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

সাক্ষাৎকারে অ্যাটাল বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ ব্রিটেনে সম্প্রতি করোনা সংক্রমণের যে বিস্ফোরণ বা উল্লফন ঘটছে, তা আমরা সবাই দেখেছি। এই বিস্ফোরণের লক্ষণগুলো সম্প্রতি ফ্রান্সেও দেখা যাচ্ছে।’

মহামারি শুরুর পর থেকে ইউরোপের যেসব দেশ করোনায় সবচেয়ে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি পার করছে, সেসবের মধ্যে ফ্রান্স অন্যতম। ২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ফ্রান্সে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৫৭ লাখ ৮৬ হাজার ২০৩ জন এবং মারা গেছেন মোট ১ লাখ ১১ হাজার ১৬১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫৯৪ জন এবং মারা গেছেন ৯ জন। ফ্রান্সের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে আক্রান্তের হার ১০ শতাংশ বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে, একদিকে ফ্রান্সে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়লেও টিকাদান কর্মসূচির গতি বাড়ছে না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের মাত্র ৩৬ শতাংশ মানুষ করোনা টিকার দুই ডোজ সম্পূর্ণ করতে পেরেছেন। দেশটির টিকাদান কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন টিকার ডোজ সরবরাহে ঘাটতি থাকায় কর্মসূচির গতি কাঙ্খিত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এমনকি, টিকার ডোজের ঘাটতির কারণে ফ্রান্সের স্বাস্থকর্মীদের সবাইকে এখন পর্যন্ত করোনা টিকার আওতায় আনা যায়নি। দেশটির হাসপাতালসমূহের ঐক্যসংস্থা ফ্রেঞ্চ হসপিটালস ফেডারেশন (এফএইচএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের মোট স্বাস্থ্যকর্মীদের ৬৪ শতাংশ করোনা টিকার দুই ডোজ সম্পূর্ণ করতে পেরেছেন।

এই সমস্যা সমাধানে চলতি সপ্তাহেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী জিন ক্যাসটেক্স সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দেশটির প্রধান বার্তাসংস্থা এএফপি।