সাভারে সড়ক ফাঁকা, বাজারে ভিড়

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২১

কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (২ জুলাই) ঢাকার সাভারের সড়ক ছিল অনেকটাই ফাঁকা। কিছু সংখ্যক মানুষ রিকশা-ভ্যানে চলাচল করেছে। বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ভোরে ও বিকেলে সড়কে শ্রমিকবাহী বাস দেখা গেলেও শুক্রবার তা ছিল না। সড়কের কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে বাজারে মানুষের জটলা ছিল।

শুক্রবার (২ জুলাই) ভোর থেকে সাভার বাজার, বাসস্ট্যান্ড, হেমায়েতপুর, উলাইল, বাইপাইল, শ্রীপুর, জিরানীসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকারি বাজারে জনসমাগম দেখা গেছে। বিশেষ করে সাভার ও বাইপাইল এলাকার বড় পাইকারি ও খুচরা বাজারে মানুষের ভিড় বেশি ছিল।

বাইপাইলের আশুলিয়া পাইকারি মৎস্য মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বেশিরভাগ মানুষ ছিলেন উদাসীন। অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক। আবার অনেকে মাস্ক জামার পকেটে ভরে রেখেছেন। জিজ্ঞেস করতেই নানা অজুহাতে মাস্ক ব্যবহার না করার অনীহা প্রকাশ করেন তারা। বাজার কর্তৃপক্ষকেও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।

মাছ কিনতে আসা খুচরা বিক্রেতা সোলাইমান হোসেন বলেন, মাস্ক আছে কিন্তু পকেটে রেখেছেন। বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। তাছাড়াও মাস্ক পরলে নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হয় তার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পোশাক শ্রমিক বলেন, ‘আজ শুক্রবার ছুটির দিন, তাই বাজারে মাছ কিনতে এসেছি। আমি মাস্ক পরি না। আমরা তো টেক্সটাইলে চাকরি করি। আমাদের করোনা নাই। কারখানায় ঢোকার সময় ওই একটু-আতটু পরি। এরপর ভিতের ঢুকে খুলে রাখি।’

আড়তদার ও বাজার কমিটির সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, বাজার কমিটি সকাল থেকে মাইকিং করছে। ব্যানার টানিয়েছে। কেউ না শুনলে তারা কী করবেন? অনেকে মাস্ক নিয়ে আসে কিন্তু পরে না।

সাভার বাসস্ট্যান্ডের মাছ ও কাঁচামালের আড়তে গিয়েও স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রতি অনেকের অনাগ্রহ দেখা গেছে। কাঁচামালের এক দোকানি বলেন, আজ শুক্রবার তাই বাজারে অনেক মানুষ আসছে বাজার করতে। এজন্য ভিড় বাড়ছে। অনেকে মাস্ক পরে আসে, আবার অনেকে মাস্ক ছাড়া। গতকাল (বৃহস্পতিবার) প্রশাসনের লোকজন এসে ফাইনও করে গেছে। কিন্তু মানুষ না শুনলে উনারা কী করবেন?

লকডাউনের মধ্যে শিল্পকারখানা খোলা রয়েছে। প্রথম দিনে সাভার শিল্পাঞ্চলে গণপরিবহন সংকটে পোশাক শ্রমিকদের ভোগান্তি পোহাতে দেখা গেছে। পরিবহন না পেয়ে কারখানার বাসে গাদাগাদি করে অফিসে গেছেন শ্রমিকরা। অনেকে ১০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা দিয়ে রিকশায় করে গেছে। হেঁটেও গেছে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক।