চালককে অজ্ঞান করে অটোরিকশা ছিনতাই করতো তারা

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২১

প্রথমে নতুন কোনো অটোরিকশা টার্গেট। তারপর কয়েকজন মিলে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ভাড়া করে তাতে উঠতো। উঠার আগে তারা বিভিন্ন খাবার, বিশেষ করে জুস সঙ্গে করে নিতো। নিজেরা জুস পান করার সময় অটোরিকশা চালককেও প্রস্তাব দিতো। কিন্তু অটোচালকের জন্য নির্ধারিত জুসে চেতনানাশক মিশিয়ে রাখা হতো আগে থেকে। অটোচালক সরল বিশ্বাসে সেই জুস পান করে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে নিয়ে দুইজন কাছাকাছি কোনো হাসপাতালে ভুয়া ঠিকানায় ভর্তি করে তারপর পালিয়ে যেতো। চক্রের অপর সদস্যরা অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যেতো।

এমন ছিনতাইকারী দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

শুক্রবার (২ জুলাই) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) এই চক্রের চার সদস্যকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তারের পর জানা যায় ছিনতাইয়ের এমন কৌশল।

পুলিশ সুপার জানান, গত এপ্রিল মাসে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তারপর থেকে ওই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই ব্যক্তির বাড়ি জেলার গৌরীপুরে। ভুল ঠিকানায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ছিনতাইয়ের কৌশল সম্পর্কে বলে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থানার আব্দুল হালিমের ছেলে মো. খোরশেদ আলম (৩৬), নেত্রকোণার কলমাকান্দা থানার সুরুজ আলীর ছেলে বকুল মিয়া (৩০), একই এলাকার জীবন রহমানের স্ত্রী মোছা. ইয়াসমিন আক্তার (২৬) ও ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ফজলুল হকের স্ত্রী মোছা. শেফালী বেগম (৩০)।

প্রতারকদের এমন সরল বিশ্বাসের শিকার ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অটোচালক শাহীনুর ইসলাম (৫২)। যাকে এই চক্রের সদস্যরা গত ১২ এপ্রিল চেতনানাশক খাইয়ে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই করে।

গত ১৯ এপ্রিল নিহত শাহীনুর ইসলামের স্ত্রী গেীরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। নিহতের স্ত্রী পারভিন আক্তার বলেন, তার স্বামী নামাজি, সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। কারো সঙ্গে বিভেদ ছিল না। যারা তার স্বামীকে হত্যা করে দুই সন্তানকে বাবা ডাক থেকে বঞ্চিত করেছে, তাদের ফাঁসি দাবি করেন পারভিন আক্তার।

ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা বলেন, করোনাকালীন অভাবের তাড়নায় তারা এ পথ বেঁচে নিয়েছে। চেতনানাশক খাইয়ে তারা বেশ কয়েকটি অটোছিনতাই করেছে।

জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের হোতাপাড়া মনিরামপুরে বসবাস করে আশপাশের জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) তাদের সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা শাহীনুর ইসলামকে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছে। তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।