করোনা মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২১

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এবং মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এ মহামারি মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (২৭ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৪’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আবার যেহেতু মানুষ ব্যাপকভাবে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে গেছে, সবাই একটু সাবধানে থাকবেন। নিজেকে এবং পরিবারকে নিরাপদে রাখবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে নিজেকে এবং অপরকে সুরক্ষিত রাখবেন—সেটা আমার অনুরোধ। এ অবস্থা (করোনা পরিস্থিতি) আমরা মোকাবিলা করতে পারব, ইনশাল্লাহ। সে বিশ্বাস আমাদের আছে। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা আমরা চাই।’

তিনি দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে রপ্তানি খাতকে সমৃদ্ধ করতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

সরকার সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে আমরা গুরুত্ব দিতে চাই কৃষিপণ্য বা খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে। কেননা, এ করোনাকালে আমরা যদি উৎপান অব্যাহত রাখতে পারি, তাহলে নিজেদের চাহিদা যেমন মেটাতে পারব, তেমনই অন্যকেও সহযোগিতা করতে পারব। রপ্তানির ক্ষেত্রেও আমাদের পণ্য বৃদ্ধি করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘ফল-মূল, শাক-সবজি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ—সবকিছুর উৎপাদন বাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। কাজেই প্রক্রিয়াজাতকে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।’ তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করার বিশেষ অনুরোধ জানান।

জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালের পর থেকে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় থাকতে পারায় আমরা হাতে সময় পেয়েছি। ফলে, গবেষণায় যেমন উন্নতি হয়েছে, তেমনই দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে পেরেছি। কেননা, জাতির পিতা এ দেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। সে চেষ্টা সরকার অব্যাহত রেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যথেষ্ট এগিয়ে যাচ্ছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো—করোনা আসার পর বাংলাদেশ শুধু নয়, বিশ্বব্যাপী স্থবিরতা এসে গেছে। আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশের জন্য সবচেয়ে কষ্টকর।’

পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুজিববর্ষে যারা পুরস্কৃত হলেন, এভাবে বারবার যেন আপনারা আরও পুরস্কার পান। আরও অধিক সংখ্যক লোক যেন পুরস্কার পায়। এটা যেন অব্যাহত থাকে।’

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস‌্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম স্বাগত ভাষণ দেন এবং পুরস্কার বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন। পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে বক্তব‌্য রাখেন মায়া রানী বাউল।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ‘বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার ১৪২৪’ দেন। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি স্বর্ণ পদক, নয়টি রৌপ্য পদক এবং ১৮টি ব্রোঞ্জ পদক। কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৩২ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে এসব পদক দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলী সম্পর্কিত একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখানো হয়। বঙ্গবন্ধুর বাণী নিয়ে ‘বাণী চির সবুজ’ এবং ‘চিরঞ্জীব’ নামে দুটি স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।