ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৮ কিলোমিটার এলাকায় যানজট

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২১

সরকার ঘোষিত লকডাউনের প্রথম দিন মঙ্গলবার (২২ জুন) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া অংশে আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে জামালদী বাসস্ট্যান্ড থেকে ভবেরচর কলেজ রোড পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এলাকায় যানজট দেখা যায়। এতে পণ্যবাহী, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সেবামূলক গাড়িগুলো যানজটে আটকে থাকে দীর্ঘ সময় ধরে। সন্ধ্যা ৭টার দিকেও সড়কে যানজট দেখা গেছে।

এছাড়াও গত রাত থেকে জেলায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। গজারিয়া অংশের যানজটের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ভিটিকান্দি বাসস্ট্যান্ডে থাকা ঢাকাগামী পিকআপভ্যানের চালক ইব্রাহিম খলিল বলেন, লকডাউনের প্রথম দিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল কমে গেছে। বেড়েছে ছোট ছোট যানবাহন চলাচল।

চান্দিনার নূরীতলা গ্রামের বাসিন্দা দীপক মজুমদার ও তার স্ত্রী সুমা রানী মজুমদার বলেন, আমার সন্তান খুব অসুস্থ। এক ঘণ্টা ধরে আনারপুরা বাসস্ট্যান্ডে যানজটে আটকে আছি। যানজট কখন শেষ হবে আর কখন হাসপাতালে যাব?

নয়াকান্দী গ্রামের ছামাদ মিয়া কাজ করেন ঢাকায়। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, সরকার তো লকডাউন ঘোষণা করেই শেষ। ঘরে খাবার দেবে কে? কাজ না করলে খাব কী? আগেরবার তো দেখলাম সব ত্রাণ সরকারের নেতাকর্মীরাই খেয়ে ফেলেছে।

রিকশাচালক রাসেল মিয়া বলেন, করোনা আর লকডাউনে আমাগো কী করবো? আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। কাজ করতেই হবে। কত মানুষেরে কইলাম আমারে একটা ঘর দেন, কেউ দিল না। থাকার ঘর নাই বলে বউটা চলে গেল। নিজের একটা রিকশা নাই, ঘর নাই তাই বউ নাই।

ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল উদ্দিন বলেন, যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তবে গাড়ি চালকরা নিয়ম ভঙ্গ করে গাড়ি চালানোর কারণেই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রইছ উদ্দিন বলেন, হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশ যানজট নিরসনে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।