করোনায় দ্বিতীয়বার সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কম, বলছে পিএইচই

প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২১

একবার কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের দ্বিতীয়বার এই ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কম, বলছে পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড (পিএইচই)। যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে জনগণের ওপর নজরদারি চালানোর পর দেশটির এই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, ডেটা বিশ্লেষণে দ্বিতীয়বার করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কম বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

লোকজনের আবারও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির বিষয়ে বোঝাপড়া এবং নিরীক্ষণে সহায়তা করতে এই ডেটা প্রকাশ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিএইচইর সাপ্তাহিক নজরদারি প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে এখন থেকে নিয়মিত ডেটা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ এই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

পিএইচই বলছে, সাম্প্রতিক ডেটায় দেখা গেছে— সার্স-কোভ-২ ভাইরাসে পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম। মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে গত ৩১ মে পর্যন্ত ইংল্যান্ডে ১৫ হাজার ৮৯৩ জন পুনরায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। ইংল্যান্ডে করোনা সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। সেদিক থেকে তুলনা করলে দেখা যায়, পুনরায় সংক্রমিত হওয়ার হার মাত্র ০ দশমিক ৪ শতাংশ।

পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের করোনাবিষয়ক স্ট্র্যাটেজিক ডিরেক্টর ডা. সুসান হপকিন্স বলেছেন, ‌একবারের বেশি করোনা সংক্রমিত হতে পারে কি-না তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। কিন্তু আমরা জানি, মানুষ একাধিকবার এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। সাম্প্রতিক ডেটায় দেখা গেছে, পুনরায় কোভিড-১৯ সংক্রমিত হওয়ার হার অনেক কম। তবে এটা নিয়ে আত্মতৃপ্ত না হওয়াই জরুরি। টিকার দুই ডোজ নেওয়া এবং যেকোনও ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাসে সব ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি মেনে চলাই গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রিটেনের এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, করোনার অন্যান্য ধরনের তুলনায় অতি-সংক্রামক ডেল্টা অথবা অন্য প্রজাতি পুনরায় সংক্রমণ ঘটানোর জন্য বেশি দায়ী কি-না সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে আমরা এই বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করব।
হপকিন্স বলেছেন, সার্স-কোভ-২ ভাইরাসে পুনরায় সংক্রমণের ঘটনা প্রত্যাশিত এবং অতীতেও এটি দেখা গেছে। তবে আমাদের এই ডেটা সামগ্রিক ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছে। ইংল্যান্ডে করোনায় আক্রান্তদের ওপর চালানো জাতীয় নজরদারিতে এই ভাইরাসে পুনরায় সংক্রমতি হওয়ার ঝুঁকি কম বলে উঠে এসেছে। টিকার উপযুক্ত ব্যক্তিরা উভয় ডোজ নিলে পুনরায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি তাদের ক্ষেত্রে খুবই কম।

ইংল্যান্ডের জনসাধারণের ওপর চালানো নজরদারিতে দেখা গেছে, সেখানে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৮৯৩ জন পুনরায় আক্রান্ত হয়েছেন। পুনরায় এই সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে প্রথমবার করোনা পজিটিভ হওয়ার কমপক্ষে ৯০ দিনের মধ্যে।

যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের বৃদ্ধি পাওয়ায় চলমান লকডাউনের মেয়াদ আবারও বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত করোনা বিধি-নিষেধ এবং লকডাউন কার্যকর থাকবে বলে গত বুধবার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।