“পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে ১ম প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করল এক আনসার সদস্য”

প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : আসল নাম মোঃ তোহিদুল ইসলাম। কোথাও তার নাম জীবন, কোথাও তার নাম তুহিন, আবার কোথাও তার নাম সাগর, আবার কোথাও সে তোহিদুল নামে পরিচিত। একই মানুষের কতো নাম!!

মোঃ তোহিদুল ইসলাম তুহিন বাংলাদেশ সাধারণ আনসার বাহিনীর একজন সদস্য। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ জোনের বন্দর থানাধীন বন্দর নিরাপত্তা শাখা-০৮ সংস্থায় অঙ্গীভূত স্মার্ট কার্ড নং ৭৮৮৮৫ তে কর্মরত আছেন। গত ২৪/১২/২০১৩ইং তারিখে পারিবারিক ভাবে ইসলামী শরিয়াহ মতে তিনি কুড়িগ্রাম জেলার মোছাঃ জান্নাতুন খাতুনকে বিয়ে করেন।

তার স্ত্রী গনমাধ্যম সহ বাংলাদেশ আনসার ও গ্ৰাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদয়ের কাছে অভিযোগ করেছেন যে বিয়ের পর থেকেই তোহিদুল ও তোহিদুল এর বাবা মা বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের জন্য কারণে অকারনে শারীরিক ও মানসিক অত‍্যাচার করতো বিধায় মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জান্নাতুনের বাবা মা তোহিদুলের দক্ষিণচর পাড়া গ্ৰাম, থানা – চাটমোহর, জেলা-পাবনা বাসায় গত ২০১৭ সালে বিভিন্ন সময়ে তোহিদুলের বাবা মায়ের সামনে তোহিদুল এর হাতে ২,০০,০০০ লক্ষ টাকা তুলে দেয়। তোহিদুল ও জান্নাতুনে এর একটি ছেলে সন্তান আছে যার বর্তমান বয়স ৬ বছর। এত টাকা দেওয়ার পরও জান্নাতুন না পেল স্বামীর আদর, না পেল শশুর বাড়ীর সন্মান।

গত ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে তোহিদুল হঠাৎ করেই তার স্ত্রী জান্নাতুনের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে জান্নাতুন তার ৬ বছরের ছেলে সন্তান নিয়ে ৩০/১২/২০২০ইং তারিখে চট্টগ্রামে তোহিদুল এর বাসায় যায়। বাসায় গেলে তোহিদুল ঠিক মতো বাসায় আসেনা এবং তার স্ত্রী ও ছেলে সন্তানের খোঁজ খবর নেয়না। পরে হঠাৎ তোহিদুল খুলনা বদলি হয়ে যাওয়ার কথা বলে এবং তার স্ত্রী তার সন্তান সহ জান্নাতুনের বাবার বাড়ি কুড়িগ্রাম চলে যেতে বলে। জান্নাতুন কুড়িগ্রাম যেতে অস্বীকার করিলে তোহিদুল জান্নাতুনকে চড় থাপ্পড় মারে এবং তাকে মেরে ফেলার জন্য বিভিন্ন প্রকার ভয়ভিতি সহ হুমকি প্রদর্শন করে জান্নাতুন ও তার ছেলে কে জোর করে কুড়িগ্রাম চলে যাওয়ার জন্য বাসে তুলে দেয়।

পরে হঠাৎ তোহিদুল গত ১১/০৬/২০২১ইং তারিখে রাতে জান্নাতুনের বাবার বাড়ি কুড়িগ্ৰামে যায় এবং সেখানে বলে তার প্রমোশনের জন্য ৫,০০,০০০ লক্ষ টাকা লাগবে। জান্নাতুনের বাবা বর্তমানে একজন প‍্যারালাইডস্ রোগী। জান্নাতুনের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। তাই যৌতুকের সর্বশেষ ৫,০০,০০০ লক্ষ টাকা না দিতে পারায় তোহিদুল পুনরায় জান্নাতুনকে চড় থাপ্পড় মেরে তালাক দেওয়ার কথা বলে অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করার হুমকি দিয়ে কুড়িগ্রাম থেকে চলে আসে। পরে জান্নাতুন জানতে পারে তার স্বামী পপি খাতুন নামক একটি মেয়েকে তার অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করে তোহিদুল তার গ্ৰামের বাড়ি চাটমোহরে গত ১২/০৬/২০২১ইং তারিখে নিয়ে যায়। জান্নাতুন যাতে কারো সাথে যোগাযোগ না করতে পারে সেই জন্য জান্নাতুন এর কাছে থাকা তোহিদুলের সকল মোবাইল সিম সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

জান্নাতুন বর্তমানে তার ৬ বছরের সন্তান নিয়ে আর্তমানবতার জীবন করিতেছে। গত ৬ মাস তোহিদুল জান্নাতুন ও তার সন্তানের খবর তো নিলোই না উল্টা তোহিদুল জান্নাতুন এর বিনা অনুমতিতে পপি কে বিয়ে করেছে।

মূলত পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে এই আনসার সদস্য কোথাও অবিবাহিত পুলিশের এসআই, আবার অবিবাহিত আনসার ব‍্যাটেলিয়ান সদস্যর পরিচয় দিয়ে তার গ্ৰামের বাড়িতে সরকার ভিলা নামক ৪তলা বিল্ডিং বাড়ির কথা বলে অনেক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। আর তার এই অপকর্মের বলি হয়েছে জান্নাতুন ও জান্নাতুনের পরিবার। অপর দিকে তোহিদুল তার নতুন বৌকে বিয়ের আগেই চট্টগ্রামে অবৈধভাবে জান্নাতুন কে তাড়িয়ে দিয়ে পপির সাথে পরকীয়া করে তাকে বিয়ে করে এবং জন্নাতুনের জীবন দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে দেয়। অপর দিকে পপি কে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তাকে জোর করে বাড়িথেকে তুলে নিয়ে যায় তোহিদুল অরফে তুহিন অরফে জীবন।

তোহিদুল এর বিরুদ্ধে এই বিষয় নিয়ে পপির মা ঝর্ন বেগম গত ০১/০৪/২০২১ইং তারিখে সাভার মডেল থানায় বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন এবং পপির ভাই মোঃ রকিবুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ০৪/০৫/২০২১ইং তারিখে সাভার মডেল থানায় একটি জিডি করেন যার নং -২৪৭ ।

তোহিদুল এর কুকর্মের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ঠ গনমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী গন। অতি দ্রুত তোহিদুল কে চাকরির থেকে স্থায়ী বহিষ্কার এর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সহ বাংলাদেশের আনসার ও গ্ৰাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদয় এবং সর্বশেষ মাদার অফ দা হিউম্যানেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন এবং এই কলঙ্কিত আনসার সদস্যকে স্থায়ী বহিষ্কার পূর্বোক আইনের আওতায় আনার জন্য জান্নাতুন এর পরিবার, পপির পরিবার, বাংলাদেশের গনমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী গন অত্র নিউজ এর মাধ্যমে তোহিদের শাস্তি কামনা করছেন। তোহিদুল বাংলাদেশে সাধারণ আনসার বাহিনীর একজন কলঙ্কিত সদস্য। তার বিচার দেখে আর যাতে কোন আনসার বাহিনী তাদের আদর্শ হারিয়ে না ফেলে এই কামনা ই করছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ঠ গনমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী গন।