কার্টুনিস্ট কিশোরের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পায়নি মেডিকেল বোর্ড

প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২১

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোরের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি মর্মে মহানগর দায়রা জজ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে মেডিকেল বোর্ড। আজ রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ভুক্তভোগী কিশোরের শারীরিক পরীক্ষা শেষে মেডিকেল বোর্ড প্রতিবেদনে বলেছে, কিশোরের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হতে এবং পরবর্তী মূল্যায়নের জন্য আরও তদন্ত প্রয়োজন আছে।

প্রতিবেদন দাখিলকারী তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক কান ও গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শেখ নুরুল ফাত্তাহ রুমি (প্রধান), মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজ সরদার, অর্থোপেডিক এবং টমাটলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফখরুল আমিন খান।

আইনজীবী তাপস কুমার পাল জানান, নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হবে। এরপর আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেবেন।

এর আগে গত ১০ মার্চ নির্যাতনের অভিযোগে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন কার্টুনিস্ট কিশোর কুমার। মামলায় ২০১৩ সালের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে অভিযোগ আনা হয়। তবে মামলায় কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। গত ১৪ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

এ ছাড়া নির্যাতনের ফলে কিশোরের কান, কান ও পায়ে আঘাত পেয়েছেন সেগুলো পরীক্ষা করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে আদেশ পাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঢামেক পরিচালককে আদেশ দেওয়া হয়। আর কিশোরকে যদি শারীরিকভাবে নির্যাতন করে থাকে সেটা ২ থেকে মে পর্যন্ত করা হয়েছে কি না, আর যদি আঘাত করে থাকে সেটা কতটুকু করা হয়েছিল সে বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।

এরপর আদালতের নির্দেশে গত ১৬ মার্চ কিশোরের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ঢামেক। এই মেডিকেল বোর্ড কিশোরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে গত ২০ মার্চ আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রতিবেদনটি জমা দেন। মামলার নির্ধারিত তারিখ ১৪ এপ্রিল কোভিডের কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তা উপস্থাপন করা হয়নি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়া হলেও পিবিআই এর তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আদালতে জমা পড়েনি। মামলায় কিশোর উল্লেখ করেন, গত বছর ৫ মে রমনা থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কিন্তু এর আগে গত ২ মে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ১৬-১৭ জন সাদা পোশাকধারী লোক তার কাকরাইলের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান। কিন্তু তারা কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ দেখাতে পারেননি। তারা বাসা থেকে মোবাইল, সিপিইউ, পোর্টেবল হার্ডডিস্কও নিয়ে যান। পরে হাতকড়া ও মুখোশ পরিয়ে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় তাকে। সেখানে ২ থেকে ৪ মে পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করা হয়। তাদের আলাপ আলোচনায় একজনকে জসিম বলে ডাকতে শুনেন।

এজাহারে তিনি বলেন, তাকে একটি পুরোনো ও স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রচণ্ড জোরে তার কানে থাপ্পড় মারলে কিছুক্ষণের জন্য তিনি বোধশক্তিহীন হয়ে পড়েন। বুঝতে পারেন, তার কান দিয়ে রক্ত গড়গড়িয়ে পড়ছে। তারপর স্টিলের পাত বসানো লাঠি দিয়ে পায়ে পেটাতে থাকে। যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন কিশোর। এভাবে কয়েক দফা ২ থেকে ৪ মে পর্যন্ত শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের পর তাকে র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যায়।