সাইবার হামলা ঠেকাতে বাইডেনের ১০ বিলিয়ন ডলারের মহাপরিকল্পনা

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২১

ফেডারেল প্রশাসনের কম্পিউটার সিস্টেমকে সাইবার হামলা থেকে রক্ষার জন্যে সামনের অর্থ বছর ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব পেশ করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। চলতি অর্থ বছরের চেয়ে তা ১৪% বেশী বলে হোয়াইট হাউজ উল্লেখ করেছে। রাশিয়া এবং চীনের হ্যাকার ছাড়াও কিছু দেশের সরাসরি পৃষ্টপোষকতায় সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দফতরের কম্পিউটারে হামলা চালায় হ্যাকারের দল। সামরিক বাহিনীর সাইবার অপারেশনেও রয়েছে অতিরিক্ত বরাদ্দ। তবে তার পরিমাণ সুনির্দিষ্ট করে বলা হচ্ছে না। কারণ, সামরিক সেক্টরে এমন কিছু কার্যক্রম পরিচালিত হয় যা কখনোই প্রকাশ করা হয় না জাতির বৃহত্তর নিরাপত্তার স্বার্থে।

জানা গেছে, গত ৬ মাসে রাশিয়া এবং চীনের হ্যাকাররা বেশ কবার চেষ্টা করেছে ফেডারেল সরকারের স্পর্শকাতর কিছু তথ্য চুরি করতে। কলোনিয়াল পাইপলাইনে অতি সম্প্রতি সাইবার হামলার ব্যাপারটি দৃশ্যমান হয় এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় স্টেটসমূহে গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এরফলে গ্যাসের দাম বেড়ে যায়। আন্ত:স্টেট পরিবহন ব্যবস্থায় এর জের পড়েছিল। বহু মানুষ এর ভিকটিম হয়েছেন। বেড়েছে দ্রব্যমূল্য। সামাজিক নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং করোনায় ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতিকে ঘোরে দাঁড়ানোর অভিপ্রায়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট প্রস্তাবে এমন আরো কিছু খাত রয়েছে যা সময়ের তাগিদে সৃষ্টি করা হয়। সৌর-শক্তি যাতে হ্যাকারের হামলার বাইরে থাকে সেজন্যেও রয়েছে ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব। আরো ১১০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়ের সাইবার সিকিউরিটি ও অবকাঠামো সিকিউরিটি এজেন্সির জন্যে।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সেক্টরকে সাইবার হামলার ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সার্বিক নিরাপত্তা-ব্যবস্থায়ও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়াও কংগ্রেসে সাইবার সিকিউরিটি প্যানেলের সুপারিশ অনুযায়ী এ খাতে নতুন অফিস স্থাপনের প্রসঙ্গও রয়েছে। সাইবার সিকিউরিটির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম এমন একটি অফিস হোয়াইট হাউজে স্থাপনের প্রস্তাবও রয়েছে ঐ বাজেটে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের পুরনো টেকনোলজি সরিয়ে যুগোপযোগী টেকনোলজির সমন্বয় ঘটাতে আরো ৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।