আটকে রেখে দিনের পর দিন ধর্ষণঃ পরিকল্পনা ছিল পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়ার!

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২০

অনেক স্বপ্ন নিয়ে ভালবাসার মানুষের হাত ধরে ঘর ছেড়েছিলেন দশম শ্রেণির ছাত্রী তন্বী (ছদ্মনাম)। অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা। তাই দখিনা বারান্দার ফ্ল্যাটে টোনাটুনির সংসার পাতার স্বপ্নের পাশাপাশি হয়ত মেয়েটির মূল স্বপ্ন ছিল দুমুঠো ভাত আর একচিলতে কাপড়ের নিশ্চয়তারই। বাবার বাড়ি (উত্তরবঙ্গের একটি জেলা) থেকে তাকে সিলেটের সুনামগঞ্জে নিয়ে আসে পেশায় ইঞ্জিনিয়ার প্রেমিক জুবায়ের। এখন সময় বিয়েশাদির। যুগলজীবন কেমন রোমান্টিক সব আচরনে ভরা থাকবে, এমন স্বপ্ন কল্পন খেলা করতে থাকে সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ মেয়েটির মনোজগত জুড়ে।

কিন্তু না। ভাবনার সাথে সবসময় বাস্তবতার সম্মিলন ঘটে না। শিগগিরই তন্বী বুঝতে পারেন- স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার জন্য নয়, তাকে এখানে আনা হয়েছে কেবল যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করার জন্যই। থরেথরে সাজানো স্বপ্নগুলোকে খুন করে দিনের পর দিন ঘরের মধ্যে আটকে রেখে মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে যেতে থাকেন ভন্ড প্রেমিক জুবায়ের। তন্বীর বিশ্বাস হয়না, এ কি সেই মানুষটিই, যার চোখের তারায় আস্থা- বিশ্বাসের দেখা পেয়ে ঘর ছেড়েছিলেন তিনি? এ কি সেই যুবায়ের, অল্প দিনের পরিচয়েই যার কথার উপর ভরসা করে তিনি বাবামা- পরিচিত গণ্ডি সবকিছু ছেড়ে চলে এসেছিলেন?

বিশ্বাসের মৃত্যু ঘটে যাওয়া ভাগ্যবিড়ম্বিত তন্বী একে একে জানতে থাকেন, অবিবাহিত ছদ্মাবরণের ভন্ড প্রেমিক জুবায়ের আসলে মোটেই অবিবাহিত নন। তার স্ত্রী আছে- সন্তান আছে। এর অতিরিক্ত হিসেবে একাধিক মেয়ের সাথে আছে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কও। কোমল মিষ্টভাষী জুবায়ের বাস্তবজীবনে অত্যন্ত বদমেজাজি। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তার প্রথম স্ত্রী সন্তানসহ এখন বাবার বাড়ির আশ্রয়ে আছেন। ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দিলেও আদতে তিনি পেশায় হাইয়েস মাইক্রো বাসের ড্রাইভার। সংসার করার স্বপ্ন দেখে ঘর ছেড়ে তার বদলে ক্রমাগত ধর্ষণের শিকার হয়ে, এমন চতুর্মুখী উপায়ে প্রতারিত হয়ে মেয়েটি আক্ষরিক অর্থেই ভেঙে পড়েন।

এদিকে আদরের মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা এ সংক্রান্তে মামলা দায়ের করেন স্থানীয় থানায়। ঘটনা পরম্পরায় আমরা অভিযান চালিয়ে সুনামগঞ্জ জেলার মহিষকোনা গ্রামের নিজ বসতবাড়ি থেকে ধর্ষক জুবায়েরকে আটক করার পাশাপাশি উদ্ধার করি ধর্ষিতা তন্বীকেও। আটকের পর র‍্যাব -৯ অফিসে জুবায়েরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে আমার বিস্মিত হবার শেষ সীমাও পার হয়ে যায়। কয়েকমাস যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহারের পর মেয়েটিকে পতিতালয়ের দালালদের নিকট বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনাই ছিল তার । আমার প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজেই এই কথা স্বীকার করে নিয়ে বক্তব্য দেন।