পাট থেকে অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করলেন ঢাবির ৩ অধ্যাপক

প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২১

পাট নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে নতুন একটি অ্যান্টিবায়োটিক পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন অধ্যাপক। ব্যাকটেরিয়া ও পাটের বৈজ্ঞানিক নামের সঙ্গে মিল রেখে এটির নাম দেওয়া হয়েছে হোমিকরসিন।

গত ২৭ মে বিজ্ঞান গবেষণার জন্য বিশ্বখ্যাত নেচার পাবলিশিং গ্রুপের ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্ট’ জার্নালে ঢাবির অধ্যাপকদের গবেষণাপত্রটি প্রকাশ পেয়েছে। যা অ্যান্টিবায়োটিকের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বাংলাদেশের জন্য এটিকে সাফল্য হিসেবেই দেখছেন তারা। কারণ এর আগে দেশে এ ধরণের নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের আবিষ্কার হয়নি।

ওই তিন অধ্যাপক হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসিনা খান, রিয়াজুল ইসলাম এবং জীন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আফতাব উদ্দিন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পাট নিয়ে গবেষণা করছেন হাসিনা খান। সেই পাটের জীবন রহস্য বের করতে গিয়ে তিনি এর বিভিন্ন অংশে নানা রকম অণুজীবের সন্ধান পান। অণুজীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য জানার আগ্রহ থেকে একই বিভাগের অণুজীব বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রিয়াজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হয় নতুন গবেষণা। যুক্ত হন আফতাব উদ্দিনও।

গত তিন বছর ধরে চলা এই গবেষণায় তাদের পাশে ছিল বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআই)। গবেষক দলে বিসিএসআই-এর প্রতিনিধিসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও ছিলেন।

অধ্যাপক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমরা দেখতে পাই, পাটের তন্তুর খাঁজে খাঁজে ৫০টিরও বেশি অণুজীবরা ব্যাকটেরিয়ায় বাস করে। এসব ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে স্টেফাইলো কক্কাস হোমিনিস নামের একটি ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। যা তার শরীর থেকে এমন কিছু তৈরি করে যাতে আবার অন্য ব্যাকটেরিয়ারা মারা যায়।

তাহলে কী আছে সেই ব্যাকটেরিয়ায়? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার কাজ শুরু করেন জিন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আফতাব উদ্দিন। আর তাতেই বেরিয়ে আসে নতুন এই অ্যান্টিবায়োটিকের খোঁজ। যা বাঁচিয়ে দিতে পারে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিট্যান্স (যাদের দেহে অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করছে না) হওয়া অনেক রোগীর প্রাণ।

রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এই স্টেফাইলো কক্কাস হোমিনিস নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমরা দেখলাম, এটি সুন্দর মাইক্রোবিয়াল অ্যাক্টিভিটি দেখায়। অর্থাৎ নিজ শরীর থেকে এমন কিছু তৈরি করে যাতে আবার অন্য ব্যাকটেরিয়ারা মারা যায়। এটি আমাদের আগ্রহী করে তোলে। আরও কাজ করে জানলাম, এটি নতুন একটি অ্যান্টিবায়োটিক যেটি এর আগে কখনও আবিষ্কার হয়নি।

জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি এবং যুক্তরাজ্যের এক অধ্যাপকও গবেষক দলের সঙ্গে কাজ করেছেন বলে জানান রিয়াজুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা এখন শুধু নতুন অ্যান্টিবায়োটিকটির রিপোর্ট করেছি। ভবিষ্যতে এটিকে কমার্শিয়ালাইজ করতে হলে আরও অনেক অ্যাঙ্গেল থেকে কাজ করতে হবে। সেই অ্যাঙ্গেলগুলো নিয়ে আমাদের এখন কাজ করছি।