ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : চট্টগ্রামে প্রস্তুত ৫১১টি আশ্রয়কেন্দ্র

প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২১

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় চট্টগ্রাম জেলায় ৫১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। একইসঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে শুকনো খাবার মজুদ করা হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম।

রোববার (২৩ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি নেওয়া শেষ হয়েছে। ৫১১টি আশ্রয়কেন্দ্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। খাদ্য সামগ্রী ও ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ আছে। এছাড়া এনজিওসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এছাড়া উপকূলীয় এলাকার উপজেলাগুলো অবজারভেশনের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অবহাওয়া অধিদফতর বলছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি একই এলাকায় নিম্নচাপের পরিণত হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তি ক্রমিক নম্বর ৩-এ বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি আজ দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৭০০ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৬২৫ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭১০ কি.মি. দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৫৫ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ এবং পরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

আবহওয়া অধিদফতর থেকে বলা হয়েছে, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কি.মি. যা দমকা অথবা ঝোড়ো হওয়ার আকারে ৫০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।