পানি খাইয়ে চালককে অজ্ঞান, বিশেষ চাবিতে গাড়ি চুরি

প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২১

মো. মিরাজ শেখ একটি কোম্পানির গাড়ি চালান। পাশাপাশি নিজস্ব মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারও করেন। গত ১২ মে গুলিস্তান থেকে বাবুবাজার ব্রিজের পেরিয়ে কেরানীগঞ্জ এলাকায় আপ-ডাউন ভাড়ায় যান তিনি। সেখানে ইফতারের সময় হলে তার মোটরসাইকেলের যাত্রী তাকে ইফতারের অফার দেন। রাজি না হওয়ায় ‘অন্তত একটু পানি পান করেন’ এমন অফারে রাজি হন মিরাজ। পানি পানের পরই মাথা ধরে যায়। প্রথমে চাবি হারান। চাবির খোঁজে গলিতে ঢোকেন। ফিরে এসে দেখেন নেই মোটরসাইকেল।

ওই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ১১ দিন পর রোববার (২৩ মে) জানতে পারেন তার মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। যোগাযোগ করে ডিবি অফিসে গিয়ে তার চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটি ফিরে পান মিরাজ।

এছাড়া বিভিন্ন সময় চুরি ও ছিনতাই হওয়া দুটি প্রাইভেটকার, আটটি মোটরসাইকেল এবং চারটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দসহ ঢাকা, গাজীপুর, যশোর, নরসিংদী ও গোপালগঞ্জ জেলায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা গাড়ি চুরি ও ছিনতাই চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. রফিকুল ইসলাম (৩৩), বাহাদুর ইসলাম (৩৫), মশিউর রহমান (৩৭), শহিদুল ইসলাম (২৬), তরিকুল ইসলাম (৩৫) ও তাফসির উদ্দিন (২৫)।

জব্দ চোরাই গাড়ি
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ ডিবি পুলিশ বলছে, রমজানে লকডাউন চলাকালে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও সিএনজির চাহিদা বেশি ছিল। সেই সুযোগ নিয়ে সঙ্গবদ্ধ গাড়ি চুরি চক্রের সদস্যরা যাত্রীবেশে উঠে কখনও জিম্মি করে কখনও বা নেশা জাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে গাড়ি ছিনিয়ে নেয়।

মিরাজ শেখের মতোই আরেক ভুক্তভোগী মো. মাসুম। টাঙ্গাইল বাসাইল থানাধীন নথখোলা গ্রামের বাসিন্দা মাসুম নিজের প্রোবক্স গাড়ি ভাড়ায় চালাতেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি নিজের বাড়ি থেকে গাড়িটি চুরি হয়। গাড়িতেই ছিল সব কাগজপত্র। ওই ঘটনায় বাসাইল থানায় মামলা করেন তিনি। তদন্তে উঠে আসে ওই গাড়িটিও চুরিতে জড়িত গ্রেফতার রফিকুল ইসলাম নিয়ন্ত্রিত চক্রটি।

ভুক্তভোগী মো. মিরাজ শেখ
এ বিষয়ে ডিএমপির গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মধুসূদন দাস জানান, কোতোয়ালী থানা ও ধানমন্ডি থানায় চুরির মামলা তদন্তকালে চোর ও ছিনতাইয়ের এ চক্রটির সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশ।

এরপর ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে রফিকুল ও বাহাদুরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে কেরানীগঞ্জ থেকে একটি চোরাই প্রোবক্স প্রাইভেটকার ও একটি মোটরসাইকেল এবং গাজীপুর জেলা থেকে একটি প্রোবক্স প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।

তাদের দেওয়া তথ্যমতে যশোর জেলা থেকে এ চক্রের সদস্য মশিউর, শহিদুল ও তরিকুলকে গ্রেফতার করা হয়।

১১ দিন পর মিরাজ জানতে পারেন তার মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ
ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, চোরাই মালামালের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মালামালসমূহ গোপালগঞ্জ জেলায় আছে মর্মে স্বীকার করেন রফিক। এরপর গোপালগঞ্জ জেলা থেকে তাফসিরকে গ্রেফতার ও সাতটি মোটরসাইকেল এবং নরসিংদী জেলা থেকে চারটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতাররা যাত্রী বেশে গাড়িতে উঠে সুবিধাজনক স্থানে গিয়ে সুকৌশলে ড্রাইভারকে নেশা জাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে অথবা জোরপূর্বক গাড়ি ছিনিয়ে নিতেন। কখনও আবার পার্কিং করা গাড়ি মাস্টার চাবি দিয়ে খুলে চুরি করতেন। প্রাইভেটকার চুরির পরে এগুলো আবার মোটরসাইকেল ও সিএনজি চুরির জন্য ব্যবহার করতেন।

মোটরসাইকেল চুরি করার পর তারা দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় পাঠিয়ে দেন বিধায় উদ্ধার করা কষ্টসাধ্য হয়ে যায় বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

সহকারী পুলিশ কমিশনার মধুসূদন দাস আরও বলেন, এ চক্রটির মূলহোতা রফিকুল ইসলাম। তিনি গত ১০ বছর ধরে এই গাড়ি চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৯টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে গ্রেফতার রফিকুলের বিরুদ্ধে চার মামলায় ওয়ারেন্ট ও এক মামলায় তিন বছরের সাজা হয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের কোতোয়ালী ও ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।